মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন মাইলস্টোন শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী
সরকার জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫টি প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী। তাকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে সরকারের অতিরিক্ত সচিব (কমিটি ও অর্থনৈতিক) মো. হুমায়ুন কবির স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
মাহেরীন চৌধুরীর পৈতৃক বাড়ি নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বগুলাগাড়ি গ্রামে। তিনি স্থানীয় বগুলাগাড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নির্বাহী কমিটির সভাপতি এবং ঢাকার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইংরেজির শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পারিবারিক সূত্রে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আত্মীয় ছিলেন।
গত বছরের ২১ জুলাই ঢাকার উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ক্লাস চলাকালে একটি প্রশিক্ষণ বিমান ভবনের ওপর বিধ্বস্ত হলে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ভয়াবহ সেই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কাজ করেন মাহেরীন। একপর্যায়ে তিনি নিজেই আগুনে দগ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হলে সেদিন রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
সহকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিজের জীবন উৎসর্গ করে অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থীর প্রাণ বাঁচান তিনি। দায়িত্ববোধ ও সাহসিকতার জন্য দেশের মানুষের কাছে তিনি এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছেন।
মাহেরীনের স্বামী মনসুর হেলাল বলেন, সরকারের এ স্বীকৃতি তাদের পরিবারের জন্য গর্বের। স্ত্রীর স্মৃতি রক্ষায় এ উদ্যোগকে তিনি সাধুবাদ জানান।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে