Views Bangladesh Logo

সিলেটে শাহ পরাণ মাজারে দুপক্ষের সংঘর্ষ

সিলেটের হযরত শাহ পরাণ (রহ.) মাজারে আলেম-জনতার সঙ্গে ওরসপন্থিদের সংঘর্ষ হয়েছে।

সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত আড়াইটা থেকে ৪টা পর্যন্ত সংঘর্ষ চলে। এতে উভয় পক্ষের ৩০ থেকে ৩৫ জন আহত হয়েছেন।

হামলায় মাজারের খাদিমদের দান সদকা সংগ্রহের বৈঠকখানাসহ মাজার অফিসে ভাঙচুর করা হয়। পরে সেনাবাহিনীর একটি টিম এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গত তিনদিন থেকে শাহ পরাণ (রাহ.) মাজারে বার্ষিক ওরস শুরু হয়। এর আগে ওরসকে কেন্দ্র করে গান-বাজনাসহ বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড যাতে না ঘটে তার জন্য গত কয়েকদিন ধরে আন্দোলন করছেন স্থানীয় তৌহিদী জনতা। এমনকি মাজার কর্তৃপক্ষ বৈঠকে ওরসের নামে কোনো অসামাজিকতা হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেন এবং পরবর্তীতে ওরসে গান-বাজনা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। তাই ওরস চলাকালীন তৃতীয় কোনো পক্ষ যাতে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি না করতে পারে সে জন্য আলেম সমাজের একটি প্রতিনিধি দল প্রথম দিন থেকেই মাজার এলাকায় অবস্থান করেন এবং সার্বিক বিষয়ে নজরদারি রাখেন।

তারই ধারবাহিকতায় সোমবার দিবাগত রাতেও তারা মাজারের মসজিদের সিঁড়িতে বসে জিকির ও গজল পরিবেশন করছিলেন। এসময় ওরসে আসা মাথায় লাল কাপড় বাঁধা পাগলবেশে লোক তাদের ওপর হামলা করে মারধর করতে শুরু করেন।

হামলার শিকার আলেমরা এসময় মসজিদের ভেতরে আশ্রয় নেন। এমন খবর ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। পরে বিভিন্ন এলাকা থেকে শতাধিক লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে এসে মসজিদে আশ্রয়কারীদের উদ্ধার করেন এবং পাগলবেশীদের ওপর চড়াও হন। এসময় দু-পক্ষের মাঝে সংঘর্ষ হয় ও উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। পরে ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে সেনাবাহিনীর একটি টিম এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করে শাহ পরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনুর রশিদ চৌধুরী গণমাধ্যমে বলেন, মাজারের ওরসে আসা কিছু পাগল, ফকির ও আলেম সমাজের প্রতিনিধি দলের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। দুপক্ষের সংঘর্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় কিছু ভাঙচুর হয়েছে। তবে এখানে সুনির্দিষ্টভাবে কেউ মাজারে হামলা করতে আসেনি। এ ঘটনায় কারা জড়িত তা এখনও চিহ্নিত করা যায়নি। তবে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে পুলিশ। এ সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ