Views Bangladesh Logo

সরকারের কাছে ১৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি চেয়ে বিপিসির চিঠি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের কাছে ১৮ হাজার কোটি টাকার বেশি ভর্তুকি চেয়েছে সংস্থাটি। দেশে জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত ও বিতরণ ব্যবস্থাপনার একমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামার সঙ্গেই সরাসরি জড়িয়ে আছে বিপিসির লাভ-ক্ষতির হিসাব।

গত কয়েক বছর তেলের দাম কম থাকায় ধারাবাহিক মুনাফায় ছিল বিপিসি। তবে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়তে থাকলেও শুরুতে দেশে দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়। পরে ১৯ এপ্রিল হঠাৎ সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সরকার। এর আগেই বিপিসি জানিয়েছিল, প্রতি লিটার ডিজেলে তাদের লোকসান হচ্ছে প্রায় ১০৪ টাকা এবং অকটেনে প্রায় ৩২ টাকা, যার ভিত্তিতে ৩০ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা ভর্তুকির প্রয়োজনীয়তার কথা জানানো হয়েছিল।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় অপরিশোধিত তেলের দাম, জাহাজ ভাড়া, বীমা ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় লোকসানের ধারা এখনো অব্যাহত রয়েছে বিপিসির। তবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সংস্থাটি সার্বিকভাবে ৪ হাজার ২১৬ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছে, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ২৭৩ কোটি টাকা বেশি। ওই বছর মোট ৬২ লাখ টনের বেশি জ্বালানি তেল আমদানিতে খরচ হয় প্রায় ৫০ হাজার ১৯৫ কোটি টাকা।

বিপিসির হিসাবে, যুদ্ধের আগে প্রতি ব্যারেল ডিজেলের দাম ছিল ৮৬ ডলার, যা জুনে বেড়ে ১২০ ডলারে পৌঁছায়। একইভাবে অকটেনের দামও ৭৩ থেকে বেড়ে ১০৪ ডলার হয়। এই পরিস্থিতিতে মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত চার মাসে সংস্থাটির মোট লোকসান দাঁড়ায় ১৮ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা, যার ভিত্তিতে গত ২৮ জুলাই অর্থ মন্ত্রণালয়ে ভর্তুকি চেয়ে চিঠি পাঠায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়।

এ বিষয়ে বিপিসির অর্থ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদ জানান, ভর্তুকির চিঠির জবাব এখনো আসেনি, তবে সাড়া পাওয়ার আশা করছেন তারা। তিনি আরও বলেন, দাম সমন্বয় শুরুর পর থেকে যুদ্ধ শুরুর আগ পর্যন্ত সরকারকে ট্যাক্স-ভ্যাট বাবদ ৭১ হাজার কোটি এবং আরেকটি তহবিলে সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে বিপিসি, আর মুনাফার অর্থ দিয়েই সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা হয়েছে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ