কিনিয়োনেসের জাদুকরী গোলে এগিয়ে মেক্সিকো, প্রতিরোধে ইকুয়েডর
দীর্ঘ এক ঘণ্টার ঝড়-বৃষ্টি সামলে মাঠে নামা মেক্সিকো-ইকুয়েডরের লড়াইয়ে জ্বলে উঠল প্রথম গোলের আলো। বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত পোহানো এই ম্যাচের ২২তম মিনিটে দুর্দান্ত এক ফিনিশিংয়ে স্বাগতিক মেক্সিকোকে এগিয়ে দিয়েছেন হুলিয়ান কিনিয়োনেস।
গোলটি এসেছে ঝড়ের গতিতে করা এক আক্রমণ থেকে। রবের্তো আলভারাদোর নিখুঁত থ্রু বল বক্সের প্রায় মুখে গিয়ে পান কিনিয়োনেস, যিনি বল নিয়ন্ত্রণে এনে সময় নষ্ট না করে জোরালো শটে বল জড়িয়ে দেন ইকুয়েডরের গোলরক্ষক এরনান গালিন্দেসের জালে। শটটি প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের নাগালের বাইরে দিয়ে সোজা জালের ওপরের কোণায় গিয়ে বিদ্ধ হয়।
এটি এই বিশ্বকাপে কিনিয়োনেসের তৃতীয় গোল, যা তাকে মেক্সিকোর সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে নিয়ে গেছে। অন্যদিকে, এই আসরে আলভারাদোর এটি দ্বিতীয় অ্যাসিস্ট।
গোল হজম করার আগে ম্যাচের শুরুতে বরং এগিয়ে ছিল ইকুয়েডরই। জন ইয়েবোয়ার একটি জোরালো শট মেক্সিকোর গোলরক্ষক রাউল রানখেলের গায়ে লেগে পোস্টে প্রতিহত হয়—যা ছিল ম্যাচের প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগ। তবে এরপর ধীরে ধীরে বল দখল ও আক্রমণে নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করে স্বাগতিকরা, যার ফসল ঘরে তোলে কিনিয়োনেসের গোলে।
টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত মেক্সিকো ম্যাচপ্রতি গড়ে দেড়টি গোল করেছে, যেখানে ইকুয়েডরের গোল গড় মাত্র শূন্য দশমিক পাঁচ। মেক্সিকোর হয়ে কিনিয়োনেস ছাড়াও গোল করেছেন লুইস রোমো, মাতেও চাভেজ, আলভারো ফিদালগো ও রাউল হিমেনেস। ইকুয়েডরের হয়ে এই আসরে গোল করেছেন নিলসন আঙ্গুলো ও গনজালো প্লাতা।
মেক্সিকোর জন্য একটি বিশেষ পরিসংখ্যানগত সুবিধাও কাজ করছে—বিশ্বকাপে এস্তাদিও আজতেকায় খেলা আট ম্যাচের মধ্যে ছয়টিতে জয় ও দুটিতে ড্র নিয়ে এখনও অপরাজিত রয়েছে তারা। গ্রুপ পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়ে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ 'এ' চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল মেক্সিকো, যা তাদের এই বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত নিজেদের মাটিতেই থাকার সুযোগ দিয়েছে। বিপরীতে, গ্রুপ 'ই' থেকে তৃতীয় স্থান অধিকারী দল হিসেবে নকআউটে জায়গা করে নিয়েছে ইকুয়েডর।
গোল হজম করার পর কিছুটা খেই হারিয়েছে ইকুয়েডর, যদিও এখনও ম্যাচে ফাউল বা কার্ডের মতো বড় কোনো বিতর্কিত ঘটনা ঘটেনি—উভয় দলই মূলত বল দখল আর সংগঠিত আক্রমণেই মনোযোগী। এই ম্যাচের জয়ী দল পা রাখবে শেষ ষোলোয়, যেখানে প্রতিপক্ষ হবে ইংল্যান্ড অথবা ডিআর কঙ্গো।
মতামত দিন