অস্ট্রেলিয়ায় ৭ লাখ ৫৬ হাজার কিশোর-কিশোরীর অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করেছে মেটা
অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর প্রায় ৭ লাখ ৫৬ হাজার সন্দেহভাজন কিশোর-কিশোরীর ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করেছে মেটা। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, দেশটির নতুন আইন মেনে চলার অংশ হিসেবে এসব অ্যাকাউন্ট সরানো হয়েছে এবং বয়সসীমা কার্যকরে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মেটার দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় ৪ লাখ ৬২ হাজার ইনস্টাগ্রাম এবং ২ লাখ ৯৪ হাজার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে। আগের হিসাবে জানুয়ারি পর্যন্ত ৩ লাখ ৩১ হাজার ইনস্টাগ্রাম ও ১ লাখ ৭৩ হাজার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট সরানোর তথ্য জানিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি।
বিশ্বে প্রথমবারের মতো ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট রাখার ওপর এই বিধিনিষেধ কার্যকর হয়। এর আওতায় ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুকসহ বেশ কয়েকটি প্ল্যাটফর্মকে ১৬ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা এবং নতুন করে এমন অ্যাকাউন্ট খোলা ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে। আইনটির মূল উদ্দেশ্য শিশু-কিশোরদের অনলাইন ঝুঁকি কমানো এবং তাদের স্বাস্থ্য ও কল্যাণ সুরক্ষা করা।
তবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পরও আইনটির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বয়সসীমা চালুর পরও বিপুলসংখ্যক ১৬ বছরের কম বয়সী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে যাচ্ছে। জুনে প্রকাশিত এক গবেষণা পর্যালোচনায় দেখা যায়, বয়স যাচাইয়ের ব্যবস্থায় নানা দুর্বলতা রয়েছে এবং কিশোরদের একটি অংশ বিভিন্ন উপায়ে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে প্ল্যাটফর্মগুলোতে প্রবেশ করতে সক্ষম হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকেও কয়েকটি প্ল্যাটফর্ম আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সর্বোচ্চ জরিমানা ৪ কোটি ৯৫ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলার থেকে বাড়িয়ে ৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে আরও শক্তিশালী তদন্ত ক্ষমতা দেওয়ার পরিকল্পনাও করছে সরকার।
মেটা অবশ্য শুরু থেকেই এই আইন নিয়ে আপত্তি জানিয়ে এলেও বর্তমানে আইন মেনে চলার কথা বলছে। প্রতিষ্ঠানটি বয়স শনাক্ত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। ব্যবহারকারীর প্রোফাইলের তথ্য, জন্মদিনের ছবি, স্কুলের শ্রেণিসংক্রান্ত তথ্যসহ বিভিন্ন সংকেত বিশ্লেষণ করে বয়স সম্পর্কে ধারণা নেওয়া হচ্ছে। সন্দেহজনক অ্যাকাউন্টের বিষয়ে অন্য ব্যবহারকারীদের করা অভিযোগও যাচাই করা হচ্ছে।
কোনো অ্যাকাউন্ট বয়সসীমা লঙ্ঘনের কারণে বন্ধ করার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যাতে আবার নতুন অ্যাকাউন্ট খুলে একই নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যেতে না পারেন, সে ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে মেটা। এদিকে শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টারি শুনানিতে মেটা, টিকটক, ইউটিউব ও স্ন্যাপচ্যাটের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধিদের বক্তব্য নেওয়ার কথা রয়েছে। ফলে দেশটির বহুল আলোচিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বয়সসীমা আইন বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
মতামত দিন