জয় ও অশ্রুতে শেষ হলো মেসির আর্জেন্টিনা অধ্যায়
বুয়েনস আয়ার্সের ঐতিহাসিক মনুমেন্টাল স্টেডিয়াম সাক্ষী হলো এক চরম আবেগঘন ও ঐতিহাসিক মুহূর্তের। গ্যালারিভর্তি ৮৫ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের আকাশী-সাদা জার্সিতে নিজের ২১ বছরের দীর্ঘ ও গৌরবোজ্জ্বল আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন ৩৯ বছর বয়সী কিংবদন্তি ফুটবলার লিওনেল মেসি।
বেনিনের বিরুদ্ধে ৩-০ গোলের দাপুটে জয়ের মধ্য দিয়ে জাতীয় দলের হয়ে ২০৮তম ম্যাচে মাঠে নামেন এই মহাতারকা। দলের জয়ের দিনে পেনাল্টি থেকে তুলে নেন নিজের ১২৬তম আন্তর্জাতিক গোল। তবে খেলার নির্ধারিত ফলকে ছাপিয়ে সেদিন পুরো স্টেডিয়ামের মূল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন স্বয়ং মেসি।
বিদায়ী ম্যাচের শুরু থেকেই পরিবেশ ছিল আবেগে আপ্লুত। স্টেডিয়ামের দিকে রওয়ানা হওয়া বাসে বসেই সমর্থকদের ভালোবাসার উচ্ছ্বাস দেখে অশ্রুসিক্ত হতে দেখা যায় তাকে। পরবর্তীতে তিন সন্তানকে সাথে নিয়ে মাঠে প্রবেশ করেন তিনি, আর গ্যালারিতে তখন উপস্থিত ছিলেন স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো ও মা সেলিয়া কুচ্চিত্তিনি। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময়ও নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি এই তারকা, যা দৃশ্যমান ছিল তার ছলছল চোখে।
ম্যাচ চলাকালে গ্যালারিতে উড়ানো হয় বিশাল আকৃতির “গ্রেসাস” লেখা ১০ নম্বর জার্সি। মেসির সম্মানার্থে ম্যাচের ১০ম মিনিটে পুরো স্টেডিয়ামে এক মিনিট ধরে চলে টানা করতালি। পরবর্তীতে ম্যাচের ৭১তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে নিখুঁত শটে গোল করে নিজের শেষ মুহূর্তটিকে আরও স্মৃতিমধুর করে তোলেন তিনি।
দীর্ঘ দুই দশকের এই দীর্ঘ সফরে হতাশা, তীব্র সমালোচনা ও অভিমানী বিদায়ের পাশাপাশি ছিল রূপকথার মতো ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প। ২০২১ ও ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা জয় এবং সর্বপরি ২০২২ সালে বহু প্রতীক্ষিত বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান তিনি। রোজারিও থেকে উঠে আসা সেই তরুণ আজ বিশ্ব ফুটবলের অমর নায়ক হিসেবে কোটি ভক্তের ভালোবাসা ও অশ্রুসিক্ত চোখে বিদায় নিলেন। জাতীয় দলের জার্সির এই অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটলেও বিশ্ব ফুটবলে তার রেখে যাওয়া স্মৃতি ও অবদান চির ভাস্বর হয়ে থাকবে।
মতামত দিন