শুধু প্রযুক্তি নয়, মানসিকতারও উন্নয়ন চাই: ই-বেইলবন্ড চালুর পর প্রধানমন্ত্রী
জামিন পাওয়ার পর কারামুক্তিতে দীর্ঘসূত্রিতা ও ভোগান্তি দূর করতে ‘ই-বেইলবন্ড’ কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, শুধু প্রযুক্তির উন্নয়ন নয়, বিচার ব্যবস্থায় মানসিকতারও উন্নয়ন প্রয়োজন।
সোমবার দুপুরে বগুড়া জেলা আদালতে ই-বেইলবন্ড কার্যক্রম উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। একই সঙ্গে ঝিনাইদহ, যশোর, মাগুরা, রাজশাহী, নাটোর ও কুষ্টিয়াতেও এ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায়, যেখানে বিচার ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, পুলিশ কর্মকর্তা কিংবা সাধারণ নাগরিক—সবার জন্য সমান ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে। তিনি বলেন, ন্যায়বিচার কোনো দয়া বা করুণার বিষয় নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার।
ই-বেইলবন্ড হলো আদালত থেকে জামিন মঞ্জুর হওয়ার পর জামিননামা দ্রুত ও সরাসরি কারাগারে পাঠানোর অনলাইন ব্যবস্থা। এর ফলে বিচারকের অনুমোদনের পর কারা কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে মুক্তির প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবে। এতে বিচারপ্রার্থীদের অহেতুক হয়রানি ও দুর্ভোগ কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তারেক রহমান জানান, ভবিষ্যতে ই-বেইলবন্ড ব্যবস্থাকে পুলিশের সিডিএমএস, আদালতের কেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এবং জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিচার বিভাগকে আধুনিক ও সম্পূর্ণ ডিজিটাল ব্যবস্থায় রূপান্তরের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে গায়েবি মামলা, ভুয়া ওয়ারেন্ট এবং ওয়ারেন্ট প্রত্যাহারে বিলম্ব দেখিয়ে বিরোধী মতের বহু মানুষকে হয়রানি করা হয়েছে। অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব অনিয়ম কমিয়ে দ্রুত বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আদালত হয়রানির জায়গা নয়; বরং ন্যায়বিচার পাওয়ার নিরাপদ স্থান। মানুষের মধ্যে এ বিশ্বাস তৈরি হলে সমাজ থেকে সহিংসতাও কমে আসবে।
তিনি আরও বলেন, আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর কাগজপত্র হাতে পৌঁছাতে অনেক সময় কয়েকদিন লেগে যায়, ফলে মুক্তি বিলম্বিত হয়। এটি আইনের শাসনের অংশ হলেও তা সবসময় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে কি না, সে প্রশ্ন থেকে যায়।
নিজের কারাবাসের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, এক-এগারোর সময়ে ১৮ মাস কারাগারে থাকার সময় তিনি দেখেছেন, বহু দরিদ্র ও অসহায় মানুষ আইনি সহায়তার অভাবে অযথা জেল খাটছেন। এ বিষয়ে আইনমন্ত্রীকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব লিয়াকত আলী ভুঁইয়াও বক্তব্য দেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমানসহ স্থানীয় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী বগুড়া জেলা আইনজীবী সমিতির নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন করেন এবং ভবন নির্মাণ, গ্রন্থাগার ও মসজিদের জন্য আর্থিক অনুদান প্রদান করেন।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে