Views Bangladesh Logo

রাশিয়ায় বিস্ফোরণে নিহত মেহেরপুরের আলাল

রাশিয়ার আমুর অঞ্চলের গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে ভয়াবহ বিস্ফোরণে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার আলাল হোসেন রাজু নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার। তার মৃত্যুর খবরে বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে হোগলবাড়িয়া মাঠপাড়া গ্রামের পরিবেশ।

আলাল হোসেন রাজু গাংনী উপজেলার মটমুড়া ইউনিয়নের হোগলবাড়িয়া মাঠপাড়া গ্রামের খেড়ু মন্ডলের ছেলে। পরিবারের সদস্যরা জানান, স্ত্রীকে অন্তঃসত্ত্বা রেখে প্রায় ১৩ মাস আগে কাজের জন্য রাশিয়ায় পাড়ি জমান তিনি।

রাশিয়ায় যাওয়ার মাত্র ১৫ দিন পর তার স্ত্রী একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। বিদেশে থাকায় নবজাতক সন্তানকে কোলে নেওয়ার সুযোগ হয়নি আলালের। সন্তানকে দেখতে আগামী মাসে দেশে ফেরার কথা ছিল তার। কিন্তু সেই ফেরা আর জীবিত অবস্থায় হচ্ছে না। দেশে ফিরবেন কফিনবন্দি হয়ে।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাশিয়ার আমুর অঞ্চলের আমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণ ঘটে। এতে অন্তত ১৫ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। দুর্ঘটনায় এক বাংলাদেশি শ্রমিক জাকির হোসেন নিহত হয়েছেন এবং সাত বাংলাদেশি শ্রমিক আহত হয়েছেন। আরও একজন বাংলাদেশি নিখোঁজ ছিলেন।

মস্কোয় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা যায়, আমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সটি চীনের সিনোপ্যাক ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের অধীনে পরিচালিত হয়। বিস্ফোরণে কয়েকজনের মরদেহ এতটাই পুড়ে গেছে যে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। নিখোঁজ আলাল হোসেনও তাদের মধ্যে থাকতে পারেন বলে সে সময় ধারণা করা হয়েছিল।

দূতাবাস সূত্র আরও জানায়, দুর্ঘটনায় আহত সাত বাংলাদেশি শ্রমিককে উন্নত চিকিৎসার জন্য আমুর থেকে মস্কোর একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে ছয়জন বর্তমানে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন। মস্কোয় নেওয়ার পর আহত শ্রমিকদের চিকিৎসার বিষয়টি বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে তদারকি করা হবে।

তবে আলালের পরিবারের দাবি, ঢাকায় গিয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগের পর তারা তার মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পারেন। আলালের কর্মস্থলের এক চীনা কর্মকর্তাও পরিবারকে জানিয়েছেন, বিস্ফোরণে আলালের মৃত্যু হয়েছে এবং তার মরদেহ রাশিয়ার সেনাবাহিনী নিয়ে গেছে।

আলালের ভাই জালাল উদ্দিন বলেন, ‘আমরা ঢাকায় গিয়ে দূতাবাসে যোগাযোগ করে জানতে পারি, আমার ভাই আর বেঁচে নাই। সেও এই দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেছে। এমনটি আমাদের জানিয়েছেন আলালের বস এক চীনা নাগরিক। তারা বলছে, দুর্ঘটনায় আলালের মৃত্যু হয়েছে এবং তার লাশ সেনাবাহিনী নিয়ে গেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আমাদের দূতাবাসের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।’

আলালের চাচাতো ভাই মহির উদ্দিন বলেন, প্রায় ১৩ মাস আগে রাশিয়ার সিনোপেক্স ফোর গ্যাস ফিল্ডে কাজ করতে যান আলাল। বিস্ফোরণের ঘটনায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে তারা নিশ্চিত হয়েছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে মরদেহ বাংলাদেশে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় কষ্ট হলো, আলাল বিদেশে যাওয়ার সময় তার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। বিদেশে যাওয়ার ১৫ দিন পর দেশে তার একটি পুত্রসন্তান জন্ম নেয়। সেই সন্তানটিকে দেখতে আগামী মাসে তার দেশে ফেরার কথা ছিল। অথচ সে দেশে ঠিকই আসবে। তবে জীবিত না, মৃত হিসেবে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ