২৪ ঘণ্টায় রামেক হাসপাতালে হামে মৃত্যু নেই, কমছে রোগীর চাপ
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীর চাপ কিছুটা কমেছে। শনিবার (৯ মে) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় পর চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ১০০-র নিচে নেমে এসেছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৯ জন। বিপরীতে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১০ জন। এই সময়ে নতুন করে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে হাসপাতালটিতে ৯৯ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট ভর্তি হয়েছেন ৯৬৮ জন এবং হাম সন্দেহে মোট ৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। একদিনে ভর্তির চেয়ে সুস্থতার হার বেশি হওয়ায় হাসপাতালের ওপর চাপ কিছুটা কমেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
১২০০ শয্যার এই হাসপাতালটি পুরো উত্তরাঞ্চলের প্রধান রেফারেল সেন্টার হওয়ায় এখানে এমনিতেই রোগীর প্রচণ্ড চাপ থাকে। হাসপাতাল পরিচালকের তথ্যমতে, শয্যা সংখ্যার বিপরীতে প্রতিদিন গড়ে ২,৫০০ থেকে ৩,৫০০ রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসা ব্যবস্থা হিমশিম খাচ্ছে।
চিকিৎসকদের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে আক্রান্ত শিশুদের বয়স। শিশু বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, উপসর্গ নিয়ে আসা শিশুদের প্রায় ৬৫ শতাংশেরই বয়স ছয় মাসের নিচে। তবে সাসপেক্টেড বা সন্দেহভাজন হামের রোগীদের সবাই ল্যাব পরীক্ষায় হাম পজিটিভ নন। গত মার্চের শেষে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, সে সময় মারা যাওয়া ৩০ শিশুর মধ্যে পরীক্ষায় মাত্র একজনের শরীরে হামের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছিল। একইভাবে ২৭০ জন সন্দেহভাজন রোগীর মধ্যে মাত্র ৩৫ জনের হাম নিশ্চিত হওয়া গিয়েছিল।
বর্তমান ৫৫ জনের মৃত্যু এবং ৯৬৮ জন ভর্তির সংখ্যাকেও 'সাসপেক্টেড' হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে; ল্যাব রিপোর্টের চূড়ান্ত ফলাফলে এই সংখ্যা পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়াও জানা গেছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালে শিশুদের জন্য আলাদা কর্নার ও আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু রাখা হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সীমিত জনবল নিয়েও চিকিৎসকরা নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে