ঢাবির টিএসসিতে মাতাল রাজ্জাক দেওয়ানের ৯৩তম জন্মোৎসব অনুষ্ঠিত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির সঞ্জীব চত্বরে সাধক ও কবি মাতাল রাজ্জাক দেওয়ানের ৯৩তম জন্মোৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে ঢাবিভিত্তিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘হারিকেন’-এর উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়।
জন্মোৎসবের আয়োজনে মাতাল রাজ্জাক দেওয়ানের পরিবারের সদস্য, শিষ্য, সংগীতশিল্পী এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভক্ত-অনুরাগীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে তার জীবন, ভাবদর্শন ও সংগীত নিয়ে স্মৃতিচারণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে মাতাল রাজ্জাক দেওয়ানের সহধর্মিণী নাসিমা দেওয়ান বলেন, আমি পড়তে-লিখতে জানি না। আমার একমাত্র পড়ালেখা ছিল মাতালের সেবা করা, যা আমি আজীবন করে গেছি। আজ মাতাল নেই, কিন্তু তার গান আছে। প্রতি বছর আমাদের বাড়িতে মাতালের গানের আয়োজন হলেও এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এটি হওয়ায় আমি আনন্দিত।
মাতাল রাজ্জাকের শিষ্য আব্দুল হাই দেওয়ান বলেন, তার গুরুকে নিয়ে আয়োজনে অংশ নিতে তিনি দূর থেকে ছুটে এসেছেন। মাতাল রাজ্জাক শক্ত কথা বলে গেছেন বলেই দেশ-বিদেশে তাকে নিয়ে আলোচনা হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। গানের মাধ্যমে তিনি আজীবন মানুষের মাঝে বেঁচে থাকবেন বলে উল্লেখ করেন আব্দুল হাই।
সন্ধ্যার পর আয়োজনের দ্বিতীয় পর্বে বসে মাতাল রাজ্জাক দেওয়ানের রচিত গানের আসর। এতে তার গান পরিবেশন করেন শিষ্য, ভক্ত ও বিভিন্ন সংগীতশিল্পী।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শ্রোতা নাঈম হোসেন বলেন, মাতাল রাজ্জাকের গান মানুষের ধর্মভাবনা, বিরহ ও যাপনের নানা দিক তুলে ধরে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের আয়োজন আরও আগে হওয়া প্রয়োজন ছিল।
আয়োজক সংগঠন ‘হারিকেন’-এর সংগঠক মাহবুব খালাসি বলেন, বাংলার বাউল, ফকির ও মহাজনদের দর্শন নিয়ে কাজ করার আগ্রহ থেকেই তাদের এই উদ্যোগ। সংগীতশিল্পী বগা তালেবও মাতাল রাজ্জাকের মতো বড় মাপের একজন শিল্পীকে নিয়ে আয়োজন করতে পারাকে আনন্দের।
জন্মোৎসবের গানের আয়োজনে আকাশ গায়েন, খোকন চিশতী, মারুফ মৃন্ময়, বগা তালেব, নবীন কিশোর গোস্বামী ও আধারী মিলনসহ মাতাল রাজ্জাক দেওয়ানের শিষ্য ও ভক্তরা সংগীত পরিবেশন করেন।
মাতাল রাজ্জাক দেওয়ান লোকসংগীত ও বাউল ধারার একজন সাধক-কবি হিসেবে পরিচিত। তার গান ও দর্শনে মানবতাবাদ, মরমিবাদ, মানবজীবন, ধর্মভাবনা, বিরহ এবং সমাজবাস্তবতার নানা দিক উঠে এসেছে। তার জন্মোৎসবের এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মের কাছে তার গান ও ভাবদর্শন তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
মতামত দিন