Views Bangladesh Logo

বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিল বকেয়া, রমজানে ব্যাপক লোডশেডিংয়ের আশঙ্কা

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) কাছে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা পাওনা জমেছে।

দ্রুত বকেয়া শোধ করা না হলে আসছে রমজান ও গ্রীষ্মে জ্বালানি সংকটের কারণে ব্যাপক লোডশেডিংয়ের আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে রমজান মাসের আগেই ৬০ শতাংশ বকেয়া পরিশোধের আহ্বান জানিয়েছেন বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকরা।

সোমবার (৯ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব তথ্য তুলে ধরে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন। এসময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি ডেভিড হাসনাত, সাবেক সভাপতি ইমরান করিম, পরিচালক নাভিদুল হক ও ফয়সাল আহমেদ চৌধুরী।

বিপ্পার সভাপতি ডেভিড হাসনাত বলেন, মাত্র এক বছর আগে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বকেয়া ছিল মাত্র ৯ হাজার কোটি টাকা। এখন পিডিবির কাছে ১৪ হাজার কোটি টাকার বিল বাকি। এমনিতে বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোকে আওয়ামী লীগ ঘরানার লোক বলে ভর্ৎসনা করা হয়। অথচ ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫ আগস্টের ঠিক আগে অনেক কোম্পানির মালিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এখন নতুন সরকার আমলে বিল পরিশোধ না করলে বিদ্যুৎ দিতে পারব না। তাই তখন বিদ্যুতের বিপর্যয় ঘটতে পারে। তখন যাতে নতুন সরকার বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোকে ভুল না বোঝে তার জন্য এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

বিপ্পার সাবেক সভাপতি ইমরান করিম বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দেশীয় বিদ্যুৎ কোম্পানির বিল ৮ থেকে ১০ মাস পর্যন্ত বকেয়া রেখে ক্ষমতা ছাড়ছে। তবে তারা বিদেশি কোম্পানিদের বিল যথারীতি পরিশোধ করছে। দেশীয় কোম্পানির ১৪ হাজার কোটি টাকার বিল না দেওয়ায় অনেক কোম্পানি দেউলিয়া হওয়ার উপক্রম। এর মধ্যে পুরোনো ইস্যু তুলে সময়মতো চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ না করার অভিযোগে বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে ৮ হাজার কোটি টাকা জরিমানা কাটার উদ্যোগ নিয়েছে পিডিবি। সরকারের শেষ সময়ে এ ধরনের উদ্যোগ দেশীয় কোম্পানিকে গলাটিপে মেরে ফেলার শামিল।

তিনি বলেন, সরকার দেশীয় কোম্পানির সঙ্গে একেবারে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। দেশীয় কোম্পানির কাছে প্রমাণ আছে কয়লাভিত্তিক চীনের কোম্পানি বরিশাল বিদ্যুৎকেন্দ্র সময়মতো বিদ্যুৎ না দিলেও তাদের ক্যাপাসিটি চার্জ বা বিল দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে চীনের দূতাবাস চিঠি দিয়ে তাদের জন্য তদবির করেছে। সেই তদবিরের কারণে বরিশাল বিদ্যুৎকেন্দ্রকে বিদ্যুৎ দিতে না পারলেও তাদের কোনো জরিমানা করা হয়নি। অথচ দেশীয় কোম্পানিকে অন্যায়ভাবে জরিমানা হিসাবে ৮ হাজার কোটি টাকা বিল থেকে কাটা হচ্ছে। এতে করে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ হুমকির মুখে পড়তে পারে।

বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বিল পরিশোধে ব্যর্থ হলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো সরবরাহ স্থগিত রাখার আইনগত অধিকার রাখে। চুক্তির ১৩.২ (জ) ধারা অনুযায়ী এ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিদ্যুৎ গ্রহণের অধিকারও স্থগিত হতে পারে। তবে জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় দেশীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো কখনোই পূর্ণ মাত্রায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করেনি। বিপুল বকেয়া থাকা সত্ত্বেও তারা ব্যাংক থেকে ধার নিয়ে সাধ্যমতো জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ