ছুটির দিনে বইমেলায় উপচে পড়া ভিড়
বাঙালির প্রাণের মেলা অমর একুশে বইমেলার ১৫তম দিন ছিল শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি)। সাপ্তাহিক এই ছুটির দিনে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় ছিল বইমেলায়। শনিবার মেলা শুরু হয় দুপুর ২টায় চলে রাত ৯টায পর্যন্ত।
আজ মেলায় এসেছে ১৭৫টি নতুন বই। এর মধ্যে গল্প ১৮, উপন্যাস ২৫, প্রবন্ধ ১১, কবিতা ৭০, গবেষণা ৩, ছড়া ৩, শিশুসাহিত্য ৩, জীবনী ৪, রচনাবলি ২, মুক্তিযুদ্ধ ২, নাটক ৩, বিজ্ঞান ২, ভ্রমণ ২, ইতিহাস ৩, রাজনীতি ৪, স্বাস্থ্য ১, ভাষা ১, গণ-অভ্যুত্থান ৩, ধর্মীয় ২, অনুবাদ ১, সায়েন্স ফিকশন ৭ ও অন্যান্য ৫।
সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় বাংলা একাডেমি। আজ মেলায় ছিল আলোচনা অনুষ্ঠান, আবৃত্তি, শিশু কিশোর সংগীত প্রতিযোগিতা, লেখক বলছি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
শিশু-কিশোর সংগীত প্রতিযোগিতা
সকাল ১০ টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অমর একুশে শিশু-কিশোর সংগীত প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন- শিল্পী সুমন মজুমদার, শিল্পী প্রিয়াংকা গোপ ও শিল্পী রেজাউল করিম।
আলোচনা অনুষ্ঠান
বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘জীবন ও কর্ম : সৈয়দ আলী আহসান’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মুহম্মদ আবদুল বাতেন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন তারেক রেজা এবং মহিবুর রহিম। সভাপতিত্ব করেন আবদুল হাই শিকদার।
প্রাবন্ধিক বলেন, কবি, মনীষী সৈয়দ আলী আহসান আমাদের দেশ, জাতি ও ভাষার একজন সেরা পণ্ডিত ব্যক্তিত্ব। তিনি একই সঙ্গে কবি ও বুদ্ধিজীবী হিসেবে দেশ ও দেশের বাইরে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও সম্মান অর্জন করেছেন। জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় তার বিচরণ ছিল অবাধ। শিক্ষাবিদ, গবেষক, সাহিত্য ও শিল্প সমালোচক হিসেবে অসামান্য অবদান রেখেছেন তিনি। আধুনিক বাংলা কবিতায় ভাষা ও ভাবের স্বাতন্ত্র্য সৃষ্টিতে সৈয়দ আলী আহসান পথিকৃতের ভূমিকা পালন করেছেন। কবিতার ভেতর দিয়েই যখন তিনি এই পৃথিবীকে জেনেছেন, তখনই হয়েছে তার প্রকৃত চেনা ও একান্ত জানা। তার অধিকাংশ কবিতার গঠন ও শব্দযোজনা এমনই বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত যে, সেগুলোকে অন্য কারও রচনা বলে ভুল করবার কোনো অবকাশ নেই।
আলোচকদ্বয় বলেন, সৈয়দ আলী আহসানের কর্মপরিধি অত্যন্ত ব্যাপক। বাংলা গদ্যে ও কবিতায় নিজস্ব সৃষ্টিশীলতার ছাপ রেখেছিলেন তিনি। সাহিত্যের এমন কোনো ক্ষেত্র নেই যেদিকে তিনি দৃষ্টিপাত করেননি। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচনার পাশাপাশি বাংলাদেশের সমালোচনা— সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন তিনি। বিশ্ব সাহিত্যের সঙ্গে বাংলা সাহিত্যের সংযোগকে পরিপূর্ণতা দিয়েছিলেন সৈয়দ আলী আহসান। তার অনুপম জীবন ও কর্ম নতুনভাবে জাতিকে জাগিয়ে তোলার প্রেরণা হতে পারে।
সভাপতির বক্তব্যে আবদুল হাই শিকদার বলেন, সৈয়দ আলী আহসান ছিলেন বহুমাত্রিক বহুবর্ণিল প্রতিভা। তিনি একই সঙ্গে ঐতিহ্যসচেতন এবং আধুনিক। তার জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনার অর্থই হলো কল্যাণ ও মঙ্গলের দিকে অগ্রযাত্রা। ‘লেখক বলছি’ অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন কবি শহীদুল্লাহ ফরায়েজী এবং কবি ও গবেষক মহিবুর রহিম। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন কবি তারিফ রহমান, কবি জাহিদ হায়দার। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী সায়েরা হাবীব, শারমিন জুঁই ও শাহনাজ পারভীন লিপি।
আজ ছিল মো. শহিদুল্লাহ্’র পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘শহীদ শিল্পীগোষ্ঠী ও সাংস্কৃতিক একাডেমি’এবং চৈতী পারভীনের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘শিল্পবৃত্ত’-এর পরিবেশনা। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী ফারজানা আক্তার পপি, সুতপা সাহা, দীপ্র নিশান্ত, পার্থ প্রতীম রায়, মহুয়া মঞ্জরী, নাঈমা ইসলাম, আরিমা তাবাসসুম, শারমিন সুলতানা এবং তানজীনা তমা। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন, জয়সিংহ রায় (তবলা), ইফতেখার হোসেন সোহেল (কী-বোর্ড), মো. মনিরুজ্জামান (বাঁশি) এবং মো. আবুল কাশেম (সেতার)।
আগামীকালের অনুষ্ঠান
আগামীকাল ১৬ ফেব্রুয়ারি রোববার অমর একুশে বইমেলার ১৬তম দিনে মেলা শুরু হবে বিকেল ৩টায় চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৪ টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘জীবন ও কর্ম : জহির রায়হান’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন কবি সহুল আহমদ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন মশিউল আলম এবং আহমাদ মোস্তফা কামাল। সভাপতিত্ব করবেন মাহবুব হাসান।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে