সরবরাহ বাড়লেও অস্থিতিশীল হচ্ছে রমজানের বাজার
রমজান মাসে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে পণ্য বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিক্রেতারা, এ অভিযোগ ক্রেতাদের। অন্যদিকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য কিনে বাজার অস্থিতিশীল করছেন ক্রেতারাই, দাবি বিক্রেতাদের।
আর বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, চিনি, ছোলা, পেঁয়াজ-রসুন, আদা এবং মটর ডালসহ ডালজাতীয় পণ্যের আমদানি-সরবরাহ চাহিদার তুলনায় বেশি হচ্ছে। ফলে পণ্যমূল্য বাড়ানোর সুযোগ নেই।
রোববার (২ মার্চ) শুরু হচ্ছে পবিত্র মাহে রমজান। মাসজুড়ে ইফতারি-সেহেরির প্রস্তুতি নিতে বাড়তি বাজার করে রাখছেন অনেকেই। চাহিদা বাড়ায় অতিরিক্ত দাম বাড়িয়ে ক্রেতাদের পকেট কাটছেন বিক্রেতারা, এমন অভিযোগ রাজধানীজুড়ে।
শনিবার (১ মার্চ) কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা দেখা গেছে, মুদি, মুরগি, মসলা আর সবজির বাজারে উপচেপড়া ভিড়। অনেকেই এসেছেন সারা মাসের বাজার সেরে রাখতে।
তবে প্রায় দুই মাস ধরে সরবরাহ সংকটে থাকা সয়াবিন তেলের বাজার স্বাভাবিক হয়নি। বেড়েছে গরুর মাংস, মুরগি, শসা, লেবু ও বেগুনের দামও। এক হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ১২০ টাকায়। যা দেড় সপ্তাহ আগেও ছিল ২০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে।
রোজায় ইফতারির উপকরণ হাইব্রিড শসা কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা ও দেশি শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি। প্রতি কেজি বেগুনের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। অভিযোগ আছে বাড়তি দরে ধনে পাতা বিক্রি নিয়েও।
চাহিদা বাড়ায় দৌঁড়াতে শুরু করেছে মুরগি ও গরুর মাংস এবং মাছের দামও। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ২০০ থেকে ২১০ টাকা ও সোনালি মুরগি ২৮০ থেকে ৩১০ টাকা এবং গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি। মাছের দামও কেজিতে বেড়েছে ১০ থেকে ২০ টাকা।
তবে স্থিতিশীল রয়েছে খেজুর, চিনি, ছোলা, চিড়া, মুড়ি, গুড়সহ অন্য পণ্যের দাম।
নিত্যপণ্যের দামে নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছে, অভিযোগ তুলে বাজারে আসা ক্রেতারা বলছেন, রোজার মাস সংযমের মাস হলেও এ মাসেই যেন বেশি সংযম হারান ব্যবসায়ীরা। তাদের ইচ্ছেমতো বেড়ে যায় দাম। ব্যতিক্রম হয়নি এবারও। মূলত রোজায় চাহিদা বাড়া সব পণ্যের দামেই আগুন লাগা শুরু হয়ে গেছে।
ভোজ্য তেলের সংকট নিয়ে ব্যবসায়ীরা জানান, কোম্পানির ডিলাররা পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ করছেন না। বোতলজাত সয়াবিনের সঙ্গে নানা পণ্য নেয়ার শর্তও জুড়ে দিচ্ছেন। এ কারণেই এই অবস্থা।
লেবুর মূল্যবৃদ্ধির কারণ নিয়ে তারা বলেন, এখন লেবুর মৌসুম নয়। তাই দাম বাড়তি থাকা স্বাভাবিক। তবে যতোটা বেড়েছে, তা স্বাভাবিক নয়।
তবে কিছু ব্যবসায়ীর দাবি ভিন্ন। তারা বলেন, ক্রেতারা রমজানের শুরুতেই বাজারে কেনাকাটা করতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন। ফলে, হঠাৎ করে বিভিন্ন পণ্যের চাহিদা বেড়ে যায়, বাড়ে দামও।
ব্যবসায়ীরা আরও বলেন, প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য না কিনলে রমজানের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই সব পণ্যের দাম স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন বলা হয়েছে, গত অক্টোবর থেকে জানুয়ারি, চার মাসে চিনি আমদানি আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ শতাংশ বেড়ে হয়েছে চার লাখ ৫৪ হাজার ৩৪ মেট্রিকটন। ওই সময়ে ডালজাতীয় পণ্যের আমদানি ৪৪ শতাংশ বেড়ে হয়েছে এক লাখ ৫৭ হাজার ৮৩৭ মেট্রিকটন। ছোলা আমদানি হয়েছে ৯৭ হাজার ৫৫৫ মেট্রিক টন, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৬৪ শতাংশ বেশি। সর্বোচ্চ ৮৫ শতাংশ বেড়ে মটরডালের আমদানি হয়েছে দুই লাখ দুই হাজার ৮৪৫ মেট্রিকটন।
পেঁয়াজ আমদানি দুই শতাংশ বেড়ে হয়েছে দুই লাখ ৮০ হাজার ৬১১ মেট্রিক টন। রসুনের আমদানিও বেড়েছে ২০ শতাংশ, চার মাসে আমদানি হয়েছে ৬১ হাজার ৩৮১ মেট্রিকটন। আদার আমদানি ৫৬ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৫২ হাজার ৫১৫ মেট্রিক টন।
ফলে কোনো পণ্যেরই সংকট নেই। দামও স্থিতিশীল, বলছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে