Views Bangladesh Logo

একুশে বইমেলার দ্বিতীয় দিনেও অপ্রস্তুত অনেক স্টল, ক্রেতাশূন্য পরিবেশ

রমজানের আবহে শুরু হওয়া অমর একুশে বইমেলার দ্বিতীয় দিনেও প্রত্যাশিত পাঠকসমাগম দেখা যায়নি। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও মেলা প্রাঙ্গণে ছিল অনেকটাই ক্রেতাশূন্য পরিবেশ। অনেক স্টলে বই সাজানোর বদলে এখনো চলছে নির্মাণকাজ—হাতুড়ি ও করাতের শব্দে ব্যস্ত কর্মীরা। ফলে পুরোপুরি প্রস্তুত না হওয়ায় অনেক প্রকাশনী এখনো বই প্রদর্শনী শুরু করতে পারেনি।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ৩টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মেলা অংশ ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের পাশের গেট দিয়ে খুব কম মানুষ প্রবেশ করছেন। সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন কয়েকজন পুলিশ সদস্য। টিএসসি-সংলগ্ন গেট দিয়েও কিছু দর্শনার্থীকে ঢুকতে দেখা যায়। ভেতরে আনসার সদস্যদের অনেককেই অপেক্ষমাণ অবস্থায় সময় কাটাতে দেখা গেছে।

মেলার ভেতরে বাংলা একাডেমির তথ্যকেন্দ্র থাকলেও সেখানে দায়িত্বে কাউকে দেখা যায়নি। কাছেই বাংলা একাডেমির বইয়ের প্যাভিলিয়নে দু-একজন পাঠককে বই দেখতে দেখা গেছে।

আরও ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি স্টলে এখনো নির্মাণকাজ চলছে। কেউ করাত দিয়ে কাঠ কাটছেন, কেউ তৈরি করছেন কাঠের ফ্রেম। তবে অধিকাংশ স্টল নির্মাণকাজ শেষ করে বই সাজানো শুরু করেছে। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন এলাকার পাশে খাবারের দোকানগুলোর বেশিরভাগও এখনো তৈরি হয়নি। কর্মীরা জানিয়েছেন, পুরো মেলার নির্মাণকাজ শেষ হতে আরও অন্তত পাঁচ থেকে সাত দিন লাগতে পারে।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে বেশিরভাগ স্টলই ছিল ক্রেতাশূন্য। তবে জনপ্রিয় কয়েকটি প্রকাশনীর স্টলের সামনে কিছু পাঠক-দর্শনার্থীকে বই উল্টেপাল্টে দেখতে দেখা গেছে; কেউ কেউ পছন্দের বই কিনছেনও।

মেলায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন প্রকাশনীর কর্মীরা জানান, গতকাল মেলা শুরু হলেও এখনো তেমন পাঠক-দর্শনার্থী আসছেন না। রমজান মাস হওয়ায় অনেকেই দিনের বেলা মেলায় আসতে আগ্রহী নন। ফলে আপাতত লোকসমাগম কম।

'বহুমাত্রিক বাংলাদেশ' প্রতিপাদ্য নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) শুরু হয়েছে এবারের বইমেলা। ওই দিন দুপুরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এবারের বইমেলায় মোট ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি প্রতিষ্ঠান। মোট ইউনিট সংখ্যা ১ হাজার ১৮টি। গত বছর ৭০৮টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছিল, ইউনিট ছিল ১ হাজার ৮৪টি।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চসংলগ্ন গাছতলায় লিটল ম্যাগাজিন চত্বরে ৮৭টি লিটল ম্যাগাজিনকে স্টল দেওয়া হয়েছে। শিশুচত্বরে রয়েছে ৬৩টি প্রতিষ্ঠান ও ১০৭টি ইউনিট।

প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত মূল মঞ্চে বিষয়ভিত্তিক সেমিনার এবং বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হচ্ছে। প্রতি শুক্র ও শনিবার বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত 'শিশুপ্রহর' আয়োজন করা হয়েছে। শিশু-কিশোরদের জন্য চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সংগীত প্রতিযোগিতার পাশাপাশি নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের ব্যবস্থাও রয়েছে।

২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে। রাত সাড়ে ৮টার পর নতুন করে কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না। আর ছুটির দিনে মেলা চলবে বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ