মেহেরপুরে গাছে বেঁধে নারী-পুরুষকে নির্যাতন, ফেসবুকে ভিডিও
মেহেরপুরে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ তুলে এক গৃহবধূ ও যুবককে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে। আজ সোমবার সকাল নয়টার দিকে সদর উপজেলার একটি গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। নির্যাতনের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
নির্যাতনের শিকার ওই নারী একজন প্রবাসীর স্ত্রী। তার চার বছরের একটি সন্তান রয়েছে। অভিযুক্ত যুবক একই এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় মুদিদোকানি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুজনের মধ্যে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে সকালে গ্রামের একদল লোক তাদের ধরে এনে একটি পেয়ারাগাছের সঙ্গে হাত বেঁধে মারধর করে।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া পাঁচ মিনিট ২১ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, গাছে বাঁধা দুজনকে ঘিরে ধরে চড়থাপ্পড় ও মারধর করা হচ্ছে। এ সময় তাঁরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে বাঁচার আকুতি জানালেও কেউ এগিয়ে আসেননি; অনেকে মুঠোফোনে দৃশ্যটি ধারণ করছিলেন।
স্থানীয় এক গৃহবধূ জানান, মারধরের সময় ভুক্তভোগী নারীর শিশুটি মাকে জড়িয়ে ধরেছিল।
নির্যাতনের শিকার নারী বলেন, ‘দোকানের বকেয়া টাকা নিতে এসেছিলেন ওই যুবক। এ সময় স্থানীয় লোকজন আমাদের ঘর থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে আনে। মুখে-ঘাড়ে চড়থাপ্পড় ও লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। মারধরের সময় যুবকেরা আনন্দ করছিল। এখন শুনছি এলাকার মাতবরেরা সালিস করে বিচার করবে আমাদের।’
নির্যাতনের শিকার যুবক ভয়ে এলাকার বাইরে থাকছেন বলে জানান তার চাচাতো ভাই। তিনি বলেন, ‘যেভাবে মারধর করা হয়েছে, তা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকে হার মানায়। সামাজিকভাবে হেয় করতে ও অর্থদণ্ড আদায়ের জন্য পরিকল্পিতভাবে এটি করা হয়েছে। আইনের শাসন থাকলে এসব করার সাহস কেউ পেত না।’
মেহেরপুর সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবির বলেন, ‘ভিডিওটি আমাদের নজরে এসেছে। ঘটনাটি অত্যন্ত বর্বর ও অমানবিক। খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। যারা এই নির্যাতনে জড়িত, তাঁদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে। কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে