Views Bangladesh Logo

বিশ্বজুড়ে আবারও বিস্তার লাভ করছে ম্যানগ্রোভ বন, আশার আলো দেখছেন বিজ্ঞানীরা

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

দীর্ঘ কয়েক দশকের বন উজাড় ও পরিবেশ ধ্বংসের পর বিশ্বজুড়ে আবারও বিস্তার লাভ করছে ম্যানগ্রোভ বন। নতুন এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১০ সালের পর থেকে ম্যানগ্রোভ ধ্বংসের তুলনায় নতুন বন গড়ে ওঠার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

ম্যানগ্রোভ বনকে উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও সুনামির আঘাত কমানোর পাশাপাশি এই বন বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

গবেষকদের মতে, সাধারণ স্থলভাগের বনের তুলনায় ম্যানগ্রোভ প্রায় পাঁচ গুণ বেশি কার্বন সংরক্ষণ করতে সক্ষম।

গবেষণায় উঠে এসেছে, ১৯৮০ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে এশিয়া, আফ্রিকা ও আমেরিকাজুড়ে প্রায় ১২ হাজার বর্গকিলোমিটার ম্যানগ্রোভ বন হারিয়ে যায়। তবে গত এক দশকে সেই প্রবণতায় বড় পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে ১৯৮০-এর দশকের পর থেকে বৈশ্বিক নিট ক্ষতি কমে প্রায় ৮৪৯ বর্গকিলোমিটারে নেমে এসেছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, এই ইতিবাচক পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে কঠোর আইনগত সুরক্ষা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে ম্যানগ্রোভের স্বাভাবিক পুনর্জন্মের ক্ষমতা। বিশেষ করে ২০০৪ সালের ভারত মহাসাগরীয় সুনামির পর উপকূলীয় জনগোষ্ঠী ম্যানগ্রোভের গুরুত্ব নতুনভাবে উপলব্ধি করে। এর ফলে অনেক দেশে বন উজাড়ের হার কমে যায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, ইন্দোনেশিয়ায় ম্যানগ্রোভ বন স্থিতিশীল হয়েছে এবং মিয়ানমারে বনভূমির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০৮ সালের ঘূর্ণিঝড় নার্গিস এবং পরবর্তী সময়ে বন সংরক্ষণ নীতিমালা দেশটিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়তা করেছে।

তবে গবেষকরা সতর্কও করেছেন। সব অঞ্চলে সমানভাবে উন্নতি হয়নি। বিশেষ করে নাইজেরিয়ার নাইজার ডেল্টা অঞ্চলে তেল দূষণ, পাইপলাইন নির্মাণ ও মানবসৃষ্ট কর্মকাণ্ডের কারণে এখনও ম্যানগ্রোভ বন মারাত্মক হুমকির মুখে রয়েছে। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া থেকে ক্যারিবীয় অঞ্চল পর্যন্ত শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ও এসব বনের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে আছে।

গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, ১৯৮০-এর দশকের পর থেকে বিশ্বের সবচেয়ে ঘন ও কার্বনসমৃদ্ধ ম্যানগ্রোভ বনের পরিমাণ প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিজ্ঞানীরা এটিকে পরিবেশ সংরক্ষণে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখছেন।

গবেষকদের ভাষায়, বন উজাড়ের হার কমার ধারাবাহিকতা প্রমাণ করে যে সঠিক নীতি, জনসচেতনতা এবং প্রকৃতিকে পুনরুদ্ধারের সুযোগ দিলে ম্যানগ্রোভ বন নিজেদের পুনর্গঠিত করতে সক্ষম। ফলে জলবায়ু পরিবর্তন ও উপকূলীয় দুর্যোগ মোকাবিলায় এটি বিশ্ববাসীর জন্য এক বড় আশার খবর। সূত্র: বিবিসি

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ