Views Bangladesh Logo

‘মঙ্গল’ নামেই অনড় বর্ষবরণ পর্ষদ, পহেলা বৈশাখে পৃথক শোভাযাত্রার ডাক

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

পহেলা বৈশাখের আদি ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক চেতনা ধরে রাখতে সরকারি সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ‘মঙ্গল’ নাম ব্যবহার করেই শোভাযাত্রা করার ঘোষণা দিয়েছে একদল সংস্কৃতি ও নাট্যকর্মী।

‘বর্ষবরণ পর্ষদ’-এর ব্যানারে ‘জাগাও পথিকে, ও সে ঘুমে অচেতন’ স্লোগানকে সামনে রেখে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের প্রথম দিন মঙ্গলবার সকালে এই বিশেষ শোভাযাত্রাটি রাজধানীর ধানমণ্ডি ২৭ নম্বর এলাকা থেকে শুরু হবে। মূলত নব্বইয়ের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’র সূচনালগ্নে যারা যুক্ত ছিলেন, তাদের উদ্যোগেই এই বিকল্প আয়োজনের ডাক দেওয়া হয়েছে।

আয়োজনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে তক্ষশিলা বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ নাদিমুল ইসলাম বলেন, ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা আমাদের জাতীয় ঐতিহ্য। ২০২৪ সালের পর থেকে আমরা প্রতিবন্ধতার শিকার হয়েছি। নাম বদলে দিলেও আমাদের এই ঐতিহ্য, এই সংস্কৃতিকে আমরা রক্ষা করব অবশ্যই।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘এই মঙ্গল শোভাযাত্রার সঙ্গে অনেক জ্ঞানী-গুণী মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা জড়িয়ে রয়েছে। কিন্তু আমাদের এই শোভাযাত্রা নিয়ে নানা রকম অপচেষ্টা...এবং কুচক্রীমহল-যেটা আন্তজার্তিকভবে স্বীকৃতপ্রাপ্ত একটি উৎসব; আমাদের নিজেদের উৎসব, পহেলা উৎসব বাঙালির উৎসব।’

অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে এবার সরকারিভাবে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ আয়োজন করা হচ্ছে। এ বিষয়ে গত ৫ এপ্রিল সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রার নাম নিয়ে যে বিতর্ক, আমরা তার অবসান চাই। পহেলা বৈশাখ মূলত সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ ও কৃষকের উৎসব। আমরা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ গণতান্ত্রিক সরকার। গণতন্ত্রে বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য থাকবে। এখন থেকে নববর্ষের শোভাযাত্রা ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামে অনুষ্ঠিত হবে।”

এদিকে ‘বর্ষবরণ পর্ষদ’ ছাড়াও চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ও সাম্যবাদী আন্দোলনের মতো প্রগতিশীল সংগঠনগুলো ‘মঙ্গল’ নাম বহাল রেখেই আলাদা কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছে। ‘নতুন বছরের সূর্যে জাগুক মুক্তির গান, যুদ্ধ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রাণ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সড়কদ্বীপ থেকে এই শোভাযাত্রা শুরু করবে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে ইউনেস্কো এই শোভাযাত্রাকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দিলেও গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কিছু ধর্মীয় গোষ্ঠী ‘মঙ্গল শোভাযাত্রার’ বিরোধিতা শুরু করে। ২০২৫ সালে চারুকলার শোভাযাত্রার নাম থেকে ‘মঙ্গল’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়। নতুন নামকরণ হয় ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ