মৌসুম বাঁচাতে এবার ক্যারিকের শরণাপন্ন ম্যানইউ
চলতি মৌসুমে ছন্দ হারানো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড শেষ চেষ্টা হিসেবে ক্লাবের সাবেক তারকা মিডফিল্ডার মাইকেল ক্যারিকের হাতে দায়িত্ব তুলে দিয়েছে। মৌসুমের বাকি সময়ের জন্য তাকে প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে ইংলিশ জায়ান্টরা।
মঙ্গলবার ক্যারিকের নিয়োগ নিশ্চিত করেছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। বুধবারই প্রথমবার দলের অনুশীলনে দেখা যাবে ৪৪ বছর বয়সী এই কোচকে। তবে আগামী শনিবার ওল্ড ট্রাফোর্ডে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে তার কঠিন পরীক্ষা।
দায়িত্ব পাওয়ার পর এক বিবৃতিতে ক্যারিক বলেন, ‘ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পাওয়া আমার জন্য বিশাল সম্মান। এই ক্লাবে সফল হতে কী দরকার, তা আমি জানি। খেলোয়াড়দের সেই মানে পৌঁছাতে সাহায্য করাই এখন আমার লক্ষ্য।’
প্রধান কোচ হিসেবে রুবেন আমোরিমের ১৪ মাসের অধ্যায় শেষ হয় গত সপ্তাহে ক্লাব তাকে বরখাস্ত করলে। উলে গুনার সুলশার ও রুড ফন নিস্টলরয়ের নাম আলোচনায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত ম্যানইউর চাকরি পেলেন ক্যারিক। সাম্প্রতিক দুই ম্যাচে ভারপ্রাপ্ত কোচের দায়িত্বে থাকা ড্যারেন ফ্লেচার ফিরে গেছেন অনূর্ধ্ব-১৮ দলে।
মৌসুমজুড়েই ছন্দহীন ইউনাইটেড ঘরোয়া দুই প্রতিযোগিতা থেকে আগেভাগেই বিদায় নিয়েছে। প্রিমিয়ার লিগেও ধারাবাহিকতা নেই, ফলে শিরোপা নয়—এখন মূল লক্ষ্য টপ ফোরে ফেরার লড়াই।
ওল্ড ট্রাফোর্ডের ডাগআউটে ক্যারিক নতুন নন। ২০২১–২২ মৌসুমে সুলশার বরখাস্ত হওয়ার পর তিন ম্যাচে ভারপ্রাপ্ত কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ভিয়ারিয়াল ও আর্সেনালের বিপক্ষে জয় এবং চেলসির সঙ্গে ড্র—সেই সময় স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে বেঞ্চে রাখার সাহসী সিদ্ধান্তও নিয়েছিলেন তিনি।
পরে রালফ র্যাগনিক দায়িত্ব নেওয়ার পর ইউনাইটেড ছাড়েন ক্যারিক। ২০২২ সালে মিডলসবোরোর কোচ হয়ে ২০২৩ সালে দলকে প্লে-অফে তুলেছিলেন, পরের মৌসুমে খেলান কারাবাও কাপের সেমিফাইনালও। তবে চ্যাম্পিয়নশিপে দশম হওয়ায় গত বছরের জুনে বিদায় নিতে হয় তাকে।
খেলোয়াড় হিসেবে ক্যারিক ছিলেন ইউনাইটেডের স্বর্ণযুগের অন্যতম ভরসা। ২০০৮ সালে চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ী দলের সদস্য ছিলেন তিনি, জিতেছেন পাঁচটি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা। ২০১৮ সালে অবসর নেওয়ার পর থেকেই কোচিং স্টাফে যুক্ত ছিলেন ওল্ড ট্রাফোর্ডে।
এখন তার সামনে কঠিন মিশন। লিগ টেবিলে সপ্তম স্থানে থাকা ইউনাইটেড শীর্ষ চারের থেকে মাত্র তিন পয়েন্ট পিছিয়ে। সময় কম, চাপ বেশি—ক্যারিকের চ্যালেঞ্জ একটাই: দলকে জাগানো, পারফরম্যান্সে ধার ফেরানো এবং মৌসুমটাকে সম্মানের জায়গায় এনে দাঁড় করানো।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে