ঝিনাইদহে ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে আসামির মৃত্যুদণ্ড
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে চাঞ্চল্যকর চার বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার মামলায় একমাত্র আসামি আবু তাহেরকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২২ জুন) বেলা ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে ঝিনাইদহের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সালেহুজ্জামান এই আলোচিত রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই টাকা আসামির সম্পত্তি বিক্রি করে আদায় করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও লাশ গুম করার অপরাধে আসামিকে আরও ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবু তাহের কালীগঞ্জ উপজেলার ফারাসপুর গ্রামের শফি উদ্দীনের ছেলে।
আদালত ও মামলার রায় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কালীগঞ্জ উপজেলার বাদেডিহি গ্রামে চিপস ও জুস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশু তাবাচ্ছুমকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া আবু তাহের। একপর্যায়ে শিশুটি চিৎকার করতে গেলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে পাশের একটি বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রাখা হয়।
ঘটনার পরদিনই আসামি আবু তাহেরকে কুষ্টিয়া শহরে তার ভাইয়ের ভাড়া বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তদন্ত শেষে গত ২৬ মে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক জেল্লাল হোসেন। গত ১৬ জুন মামলার অভিযোগ (চার্জ) গঠন, ১৭ জুন সাক্ষ্যগ্রহণ এবং ২১ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে সোমবার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন আদালত।
মোট ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে আদালত আজ এই সর্বোচ্চ সাজার রায় প্রদান করেন।
আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আকিদুল ইসলাম বলেন, ‘মাত্র ১১৬ দিনে এই রায় ঘোষণার মাধ্যমে ঝিনাইদহের বিচারব্যবস্থায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো এবং সাধারণ মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় হলো।’ অন্যদিকে, রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে আসামি আবু তাহেরের ফাঁসি দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা-মা।
মতামত দিন