Views Bangladesh Logo

নেশার টাকা জোগাতে ১১ মাসের সন্তান বিক্রি, দুই মাস পর উদ্ধার

গাইবান্ধায় নেশার টাকা জোগাড় করতে নিজের ১১ মাসের শিশুকন্যাকে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক বাবার বিরুদ্ধে। ঘটনার প্রায় দুই মাস পর গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা ও দুই নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার মদনেরপাড়া গ্রামের সোলেমান চৌকিদারের বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। সোমবার সংবাদ সম্মেলন শেষে উদ্ধার হওয়া শিশু জান্নাতিকে তার মা রোমানা আক্তারের কোলে তুলে দেয় গোয়েন্দা পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গাইবান্ধা পৌর এলাকার দক্ষিণ ধানঘরা গ্রামের বাসিন্দা হামিদুল ইসলাম মাদকাসক্ত। গত ২২ জুলাই বিস্কুট কিনে দেওয়ার কথা বলে ১১ মাসের মেয়ে জান্নাতিকে বাড়ি থেকে নিয়ে যান তিনি। পরে শিশুটিকে আর বাড়িতে ফিরিয়ে না আনায় তার মা রোমানা আক্তার বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করতে থাকেন।

শিশুর সন্ধান না পেয়ে একপর্যায়ে মেয়েকে উদ্ধারের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হন রোমানা। গত ১৪ আগস্ট গাইবান্ধার আদালতের বিচারক নিশাত তাজনীন বিষয়টি আমলে নিয়ে শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য গাইবান্ধা সদর থানার পুলিশকে নির্দেশ দেন।

আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর শিশুটির সন্ধানে তদন্ত শুরু করে গোয়েন্দা পুলিশ। বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে রোববার রাতে ফুলছড়ির মদনেরপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে সোলেমান চৌকিদারের বাড়ি থেকে জান্নাতিকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা হামিদুল ইসলাম, আব্দুল মজিদ, মোরশেদা খাতুন ও জেসমিন আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মেয়েকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রোমানা আক্তার। তিনি বলেন, এমন স্বামী তিনি আর চান না এবং তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান। একই সঙ্গে স্বামীর কাছ থেকে হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করে নিজের ও সন্তানের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শরিফ আল রাজিব বলেন, আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার চারজনকে সোমবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। শিশুটিকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ