চট্টগ্রামে ভাগ্নিকে ‘ধর্ষণের’ পর হত্যার অভিযোগ
চট্টগ্রামের চন্দনাইশে ভাগ্নিকে (আপন খালাতো বোনের মেয়ে) হত্যার পর খালা-খালুকেও কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে নাজিম উদ্দীন (২৮) নামে এক যুবক।
মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) দিবাগত রাত ২টার দিকে চন্দনাইশ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড দক্ষিণ গাছবাড়িয়া নয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে।
এ ঘটনায় পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করেছে। আহত ২ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়ভাবে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার নানার বাড়িতে আসেন কলেজ শিক্ষার্থী জেরিন (ছদ্মনাম)। ওইদিন সাতকানিয়ার খাগরিয়া এলাকার নাজিমও খালার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। গত মঙ্গলবার গভীর রাতে জেরিন শৌচাগারে গেলে সুযোগ বুঝে নাজিমও ডুকে প্রথমে ধর্ষণের চেষ্টা করে। পরে এক পর্যায়ে জেরিনের মুখের ভিতর কাপড় ঢুকিয়ে ওড়না দিয়ে পেছিয়ে তাকে হত্যা করে বলে ধারণা করছে পরিবার ও স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা বলছেন, জেরিনের চিৎকারে নানা-নানির ঘুম ভেঙে গেলে বিষয়টি জানাজানি হয়। পরে নাজিম তাদেরকেও জবাই করে হত্যা করার চেষ্টা করে। তাদের চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে আসলে নাজিম পালিয়ে যায়।
এসময় স্থানীয়রা রক্তান্ত অবস্থায় নানা আবদুল হাকিম (৭৫) ও নানি ফরিদা বেগমকে (৬০) উদ্ধার করে চন্দনাইশ হাসপাতালে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। ফরিদা বেগমের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জেরিনের লাশ উদ্ধার করে চন্দনাইশ পুলিশ নিয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
চন্দনাইশ থানার ডিউটি অফিসার এসআই আমিনুল্লাহ জানান, জেরিন নানার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। এরপর নাজিমও বেড়াতে আসেন সেখানে। প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে উঠলে সুযোগ বুঝে নাজিম ভাগ্নি জেরিনকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে শ্বাসরোধ করে জেরিনকে হত্যা করে। নানি দেখে ফেলায় নানা এবং নানি দুজনকেই কুপিয়ে জবাই করার চেষ্টা করে। তারা দুজন এখন চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির ময়না তদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে