নিখোঁজের ৫০ দিন পর প্রতিবেশীর রান্নাঘরের ১০ ফুট নিচে মিলল মরদেহ
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার ৫০ দিন পর আওলাদ হোসেন (৬০) নামের এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রতিবেশীর বাড়ির রান্নাঘরের মাটির প্রায় ৮ থেকে ১০ ফুট নিচে পুঁতে রাখা অবস্থায় মেলে তার মরদেহ।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দিবাগত রাতে উপজেলার জৈনসার ইউনিয়নের চাইনপাড়া গ্রামে বায়রা খায়ের বেপারীর বাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত আওলাদ হোসেন একই গ্রামের মৃত ফরিদ শেখের ছেলে। পরিবারের ভাষ্যমতে, গত ৯ মে নিখোঁজ হন তিনি। এরপর ২৩ মে সিরাজদীখান থানায় একটি মামলা করেন তার ভাই আব্দুল আউয়াল শেখ।
নিখোঁজের পর সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি চালান পরিবারের সদস্যরা। এমনকি তার সন্ধান পেতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তবু তার কোনো হদিস মেলেনি। পরবর্তীতে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বায়রা খায়ের বেপারীর বাড়ির রান্নাঘরের মাটির প্রায় ১০ ফুট গভীর থেকে আওলাদ হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্যক্তিগত জীবনে দুটি বিয়ে করেছিলেন আওলাদ হোসেন। এ ছাড়া সম্পত্তি নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিরোধও চলছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এসব বিরোধের জের ধরেই ঘটতে পারে এই হত্যাকাণ্ড।
এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। তারা হলেন চাইনপাড়া গ্রামের কায়কোবাদ বেপারীর ছেলে মানিক বেপারী (৪০), মৃত হাজী ইদ্রিস আলীর ছেলে বিন আমিন (৩৬), মমিন আলীর ছেলে রিপন (৩০) এবং রংপুর জেলার রাজেন্দ্রপুর গ্রামের মৃত গাফফার মিয়ার ছেলে সাইফুল ইসলাম (৩৮)।
এ ব্যাপারে সিরাজদীখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন বলেন, 'ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে চারজনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, টাকা-পয়সা, স্বর্ণালংকার ও সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। তবে তদন্ত চলছে। অল্প সময়ের মধ্যেই ঘটনার প্রকৃত রহস্য ও বিস্তারিত জানানো হবে।'
মতামত দিন