ই-বর্জ্য আমদানি নিষিদ্ধ করল মালয়েশিয়া
ইলেকট্রনিক বর্জ্য বা ই–বর্জ্য আমদানির ওপর তাৎক্ষণিক ও সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মালয়েশিয়া। দেশটির সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, মালয়েশিয়াকে আর বিশ্বের বর্জ্যের ‘ভাগাড়ে’ পরিণত হতে দেওয়া হবে না।
স্থানীয় সময় বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশন (এমএসিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, সব ধরনের ই-বর্জ্য আমদানিকে তাৎক্ষণিকভাবে ‘সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ’ ক্যাটাগরিতে পুনরায় শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। এর ফলে পরিবেশ বিভাগ যে সীমিত পরিসরে কিছু ই-বর্জ্য আমদানির অনুমতি দেওয়ার ক্ষমতা রাখত, তা বাতিল হয়ে গেল।
দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান আজাম বাকী বলেন, ‘ই-বর্জ্য আর কোনোভাবেই অনুমোদিত নয়।’ তিনি অবৈধ আমদানি ঠেকাতে কঠোর ও সমন্বিত আইন প্রয়োগের অঙ্গীকার করেন।
এর আগে বিপুল পরিমাণ ই-বর্জ্য আমদানির কারণে একাধিকবার সমস্যায় পড়েছে মালয়েশিয়া। এসব বর্জ্যের বড় একটি অংশই ছিল অবৈধ এবং মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন বন্দরে সন্দেহজনক শত শত কনটেইনার ই-বর্জ্য জব্দ করে কর্তৃপক্ষ, যেগুলো পরবর্তীতে রপ্তানিকারক দেশগুলোতে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের অংশ হিসেবেই এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। গত সপ্তাহে ক্ষমতার অপব্যবহার ও ই-বর্জ্য তদারকিতে দুর্নীতির অভিযোগে পরিবেশ বিভাগের মহাপরিচালক ও উপ-মহাপরিচালককে আটক করে রিমান্ডে নেয় দুর্নীতি দমন কমিশন। তদন্তের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি ব্যাংক হিসাব ও নগদ অর্থও জব্দ করা হয়েছে।
এদিকে, বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ই-বর্জ্য চোরাচালান রোধে সরকার আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবে। পোস্টে বলা হয়, ‘মালয়েশিয়া বিশ্বের বর্জ্যের ভাগাড় নয়। ই-বর্জ্য শুধু আবর্জনা নয়; এটি পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি।’
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে