Views Bangladesh Logo

প্রাথমিকে শিক্ষক বদলিতে বড় পরিবর্তন, ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’ বাদ, যুক্ত হলো ৭ নতুন শর্ত

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলি ও পদায়ন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। ব্যাপক সমালোচনার মুখে বদলি কমিটি থেকে ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’ রাখার বিধান বাতিল করা হয়েছে। এর পরিবর্তে কমিটিতে দুজন ‘বিদ্যোৎসাহী’ বা ‘শিক্ষানুরাগী’ ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষক বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সাতটি নতুন শর্ত যুক্ত করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সংশোধিত নীতিমালা জারি করা হয়। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের বদলি কমিটিতে সভাপতির মনোনীত দুজন ‘বিদ্যোৎসাহী’ বা ‘শিক্ষানুরাগী’ ব্যক্তি সদস্য হিসেবে থাকবেন। জাতীয় পর্যায়ের বদলি কমিটির সভাপতির দায়িত্বও পরিবর্তন করা হয়েছে। এখন থেকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) এ কমিটির নেতৃত্ব দেবেন।

নতুন শর্ত অনুযায়ী, কোনো সহকারী শিক্ষক চাকরির দুই বছর পূর্ণ না হলে বদলির আবেদন করতে পারবেন না। একবার বদলি হলে পুনরায় আবেদন করতে অপেক্ষা করতে হবে তিন বছর। কেবল শূন্য পদের বিপরীতে বদলি করা যাবে এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের আবেদন ছাড়া সাধারণভাবে বদলি করা হবে না। তবে জনস্বার্থে বা প্রশাসনিক প্রয়োজনে জাতীয় কমিটির অনুমোদন নিয়ে বদলি করা যাবে।

এ ছাড়া যেসব বিদ্যালয়ে পাঁচজন বা তার কম শিক্ষক রয়েছেন অথবা শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত ১:৪০-এর বেশি, সেসব বিদ্যালয় থেকে শিক্ষক বদলি করা যাবে না। একই বিদ্যালয় থেকে একাধিক আবেদন এলে জ্যেষ্ঠ শিক্ষক অগ্রাধিকার পাবেন। একটি বিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ তিনজন শিক্ষককে সংযুক্তি পদায়ন করা যাবে। নারী শিক্ষকদের ক্ষেত্রে স্থায়ী ঠিকানা বা স্বামীর কর্মস্থলের কাছাকাছি বিদ্যালয়ে বদলির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

সংশোধিত নীতিমালায় উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয়—চার স্তরের কমিটির মাধ্যমে বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তির আগের কাঠামো বহাল রাখা হয়েছে। এছাড়া নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের লটারির মাধ্যমে বিদ্যালয়ে পদায়নের দায়িত্বও জেলা কমিটির কাছেই থাকবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন এই পরিবর্তনের ফলে শিক্ষক বদলি প্রক্রিয়ায় বিতর্ক কমবে এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আরও জোরদার হবে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ