ব্যাংক ও আর্থিক খাতে আস্থা ফেরাতে ব্যাপক সংস্কার কর্মসূচি ঘোষণা
অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং বিনিয়োগ প্রবাহ সচল রাখতে ব্যাংক ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারকে সরকারের মধ্যমেয়াদি অর্থনৈতিক কৌশলের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
সেজন্য ব্যাংক পরিচালনায় রাজনৈতিক নিয়োগ ও হস্তক্ষেপ বন্ধ এবং পারিবারিক ও গোষ্ঠীগত প্রভাবমুক্ত রাখতে প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বক্তব্যে এসব কথা জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিতে খেলাপি ঋণ কমানো, ঋণ অনুমোদন ও পুনঃতফসিল ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা এবং ব্যাংক পরিচালনায় জবাবদিহিতা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, দুর্বল ব্যাংকগুলোর আর্থিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা চালু করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী পুনঃমূলধনীকরণ এবং ব্যবস্থাপনা সংস্কার কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হবে। এজন্য চলতি অর্থবছরে দুর্বল ব্যাংকগুলোর পুনঃমূলধনীকরণে সরকার প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করছে।
তিনি জানান, আমানতকারীদের অর্থ ফেরত নিশ্চিতে ব্যাংক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরত আনতে কার্যকর পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
ব্যাংকিং খাতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডভিত্তিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, পর্যাপ্ত মূলধন সংরক্ষণ এবং শক্তিশালী করপোরেট সুশাসন নিশ্চিতের ওপর গুরুত্বারোপ করেন আমির খসরু। তিনি বলেন, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দীর্ঘমেয়াদে আরও স্থিতিশীল, দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক করে গড়ে তোলা হবে।
মন্ত্রী বলেন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে নারী, তরুণ উদ্যোক্তা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানো হবে। ফলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জন সহজ হবে।
চলমান সংস্কার কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে ব্যাংক ও আর্থিক খাতের প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত এবং দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও বিনিয়োগ প্রবাহ ত্বরান্বিত হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মতামত দিন