Views Bangladesh Logo

পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু, আজ মিনায় অবস্থান

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা আজ সোমবার শুরু হচ্ছে। সৌদি আরবের স্থানীয় তারিখ অনুযায়ী আজ ৮ জিলহজ হাজিদের মিনায় অবস্থানের মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে হজের কার্যক্রম। পাঁচ দিন দিন ধরে চলবে এ কার্যক্রম।

রোববার (২৪ মে) রাতেই হাজিরা মিনার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। ৮ জিলহজ মিনায় অবস্থান করে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা সুন্নত। এরপর ৯ জিলহজ মঙ্গলবার সকালে হাজিরা হজের মূল রোকন (ফরজ) আদায়ের জন্য ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে রওনা হবেন।

ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের অন্যতম হলো পবিত্র হজ। এটি পালন করতে পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মুসলমান পবিত্র মক্কায় সমবেত হন। হজ মূলত ধৈর্য, আত্মত্যাগ ও আল্লাহর প্রতি পরম আনুগত্যের এক অনন্য অনুশীলন। এর প্রতিটি ধাপের পেছনেই রয়েছে গভীর আধ্যাত্মিক অর্থ ও তাৎপর্য।

ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, আজ মিনায় অবস্থান করবেন হাজিরা। সেখানে তারা ফজর থেকে এশা পর্যন্ত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবেন। ‘তাঁবুর শহর’ নামে পরিচিত এই মিনা প্রান্তরে পৌঁছানোর মাধ্যমেই হজের মূল কার্যক্রমের সূচনা ঘটে।

মিনায় যাওয়ার আগে হাজিরা হজের নিয়তে পবিত্র ইহরাম কাপড় পরবেন। হজযাত্রীরা নিজ নিজ হোটেল, মসজিদুল হারাম বা নির্দিষ্ট মিকাত থেকে ইহরাম বেঁধে মিনার দিকে রওনা হন। হজ পালনকারীদের জন্য ৮ জিলহজ জোহরের নামাজের আগে মিনায় পৌঁছানো এবং সেখানে রাতযাপন করা সুন্নত। মিনায় অবস্থানের পুরোটা সময় হাজিরা আল্লাহর জিকির, তালবিয়া ও কোরআন তিলাওয়াতে মশগুল থাকেন। পৃথিবীর নানা ভাষার মুসলিমের মুখে এ সময় উচ্চারিত হয় ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনি। এই পবিত্র ধ্বনিতে পুরো মিনা প্রান্তর মুখরিত হয়ে ওঠে।

মিনায় রাত্রিযাপন শেষে ৯ জিলহজ মঙ্গলবার সকালে হাজিরা রওনা হবেন আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে। আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করাই হজের প্রধান ফরজ বা মূল রোকন। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা বলতে আরাফাতের ময়দানে অবস্থানকেই বুঝিয়েছেন। এ বছর আরাফাতের ময়দানে হজের মূল খুতবা দেবেন মসজিদে নববির প্রধান ইমাম ও খতিব শায়খ আলী বিন আবদুল রহমান আল-হুদাইফি। খুতবা শেষে হাজিরা একসঙ্গে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন। এরপর সূর্যাস্ত পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে তারা আল্লাহর দরবারে ইবাদত-বন্দেগি ও কান্নাকাটি করবেন।

৯ জিলহজ সূর্যাস্তের পর হাজিরা আরাফাত থেকে রওনা হবেন মুজদালিফার দিকে। সেখানে গিয়ে তারা মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে আদায় করবেন। এরপর খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাবেন এবং জামারায় নিক্ষেপের জন্য পাথর সংগ্রহ করবেন। ১০ জিলহজ সূর্যোদয়ের আগে মুজদালিফা থেকে আবার মিনায় ফিরবেন হাজিরা। সেদিন কেবল বড় জামারায় শয়তানের উদ্দেশে কঙ্কর বা পাথর নিক্ষেপ করবেন তারা। এরপর আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি দিয়ে মাথা মুণ্ডন বা চুল ছোট করবেন। ১১ ও ১২ জিলহজ হজের বাকি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে। এই দুই দিন বাকি জামারাগুলোতে কঙ্কর নিক্ষেপ ও বিদায়ি তাওয়াফ শেষ করে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের আগেই হাজিরা মিনা ত্যাগ করবেন। জামারাতে পাথর নিক্ষেপের মধ্য দিয়েই ১২ জিলহজ হজের সামগ্রিক আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।

সৌদি কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানা গেছে, এ বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ১৬ থেকে ২০ লাখের বেশি ধর্মপ্রাণ মুসলমান হজ পালন করছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে অংশ নিচ্ছেন সাড়ে ৭৮ হাজার হজযাত্রী। ঝামেলামুক্ত ও নির্বিঘ্নে পবিত্র হজের কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষ ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি মক্কায় অবস্থিত বাংলাদেশ হজ অফিসসহ বিভিন্ন দেশের হজ মিশনগুলো হাজিদের সেবায় সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে। হাজিদের মিনায় নেওয়ার জন্য যাতায়াত ও আবাসনসহ সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে।

গতকাল হাজিরা মক্কায় অবস্থান করে তাদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন। কেউ বায়তুল্লাহ শরিফ তাওয়াফ করেছেন, কেউ মিনার পথ খুঁজে নিয়েছেন, আবার কেউ নফল ইবাদতে মগ্ন ছিলেন। ৭ জিলহজ মূলত প্রস্তুতির দিন হলেও এর গুরুত্ব অনেক বেশি। কারণ এই প্রস্তুতির পর থেকেই শুরু হয় আল্লাহর পথে হাজিদের ঐতিহাসিক মূল যাত্রা।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ