রুমিন ফারহানাকে শহীদ মিনারে ফুল দিতে বাধা: ১৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে বাধা ও কর্মীদের মারপিটের ঘটনায় ১৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অধিকাংশ আসামি বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রুমিন ফারহানার এক কর্মী আহাদ বাদী হয়ে সরাইল থানায় মামলাটি করেন। মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনকে। সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানান, এজাহারনামীয় পাঁচজন এবং অজ্ঞাত ১৪০–১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে, তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টার দিকে, যখন রুমিন ফারহানা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণে বাধার মুখে পড়েন। বিএনপির কিছু নেতা-কর্মী তার ওপর ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান চালিয়ে ধস্তাধস্তিতে লিপ্ত হন এবং পুষ্পস্তবকটি ছিঁড়ে ফেলেন। পরে রুমিন ফারহানা কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে শহীদ মিনার এলাকা ত্যাগ করেন।
প্রতিবাদ স্বরূপ রুমিন ফারহানার কর্মী-সমর্থকরা সরাইলের শাহবাজপুর এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন, ফলে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ জানিয়েছে, একজন নারী সংসদ সদস্যকে শ্রদ্ধা নিবেদন থেকে বাধা দেওয়া গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মুক্তচিন্তার পরিপন্থী। সংগঠনটি জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছে এবং নারীবিদ্বেষী উচ্ছৃঙ্খল আচরণের বিরুদ্ধে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, রুমিন ফারহানা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন। দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে গিয়ে নির্বাচন করায় তাকে বিএনপি থেকে বহিস্কার করা হয়।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে