Views Bangladesh Logo

শিশুকে নির্যাতনের ভিডিও পোস্ট করে মাদ্রাসা শিক্ষক লিখলেন, ‘পিচ্চি পোলাপানকে কান্না করাতে ভালোই লাগে’

মাদ্রাসায় পড়তে আসা একটি শিশুকে নির্যাতন করার দৃশ্য ভিডিও করে নিজেই তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন এক শিক্ষক। ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘পিচ্চি পোলাপানকে কান্না করাতে ভালোই লাগে’।

ঘটনাটি লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়নের একটি মাদ্রাসার। অভিযুক্ত শিক্ষক ওই মাদ্রাসার সাবেক সহকারী শিক্ষক ইমরান হোসেন, যাঁর বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায়। সমালোচনার মুখে পড়ে গতকাল শনিবার তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ক্ষমা চান। ভিডিওটি তিনি নিজেই পোস্ট করেছেন বলেও স্বীকার করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাদ্রাসাটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষককে দুই মাস আগেই চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তাদের ধারণা, ভিডিওটি তিনি চাকরিতে থাকাকালেই ধারণ করেছিলেন।

ভিডিওতে দেখা যায়, একটি শিশুশিক্ষার্থীকে বেত দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে কাঁদানো হচ্ছে, আর শিশুটি আতঙ্ক ও কষ্টে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও শিক্ষক থামেননি। গত ১৬ জুলাই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষক ভিডিওটি মুছে দেওয়ার পাশাপাশি নিজের অ্যাকাউন্টও মুছে ফেলেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক ইমরান হোসেনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে গত শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘ভিডিওটি আমিই ধারণ করেছি এবং আমিই প্রকাশ করেছি। ছোট বাবুটি আমার কাছে পরীক্ষা দিতে এসেছিল। আমি তাকে কিছু প্রশ্ন করি। উত্তর দিতে না পেরে সে কান্না শুরু করে। আমি তার কান্না থামানোর জন্য দুষ্টামি করে মুখে লাঠি ধরেছিলাম। আমি তাকে বেত্রাঘাত করিনি বা ধমকও দিইনি। বিষয়টি এভাবে দেখা হবে, আমি ভাবিনি। আমার ভুল হয়েছে। আমি সবার কাছে ক্ষমা চাইছি। আপনারা আমাকে ক্ষমা করে দেবেন।’

মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. মঞ্জুর আহমেদ বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক ইমরান হোসেনকে প্রায় দুই মাস আগে প্রতিষ্ঠান থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। চাকরি হারানোর পর তিনি আগে ধারণ করা বিভিন্ন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করছেন বলে জানান তিনি।

মঞ্জুর আহমেদ জানান, ইমরান একজন টিকটকার ছিলেন এবং মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শুরু থেকেই তার আচরণে নানা অসংগতি লক্ষ করা যেত। শিশুশিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশিক্ষকসুলভ আচরণ, অকারণে শাস্তি প্রদান এবং কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া শিক্ষার্থীদের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করার অভিযোগে তাঁকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল বলে জানান তিনি।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ঘটনার পর গতকাল এ বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষককে প্রায় দুই মাস আগে মাদ্রাসা থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি রায়পুরে অবস্থান করছেন না। মাদ্রাসাটিও বন্ধ রয়েছে। ভুক্তভোগী বা তাদের পরিবারের সদস্যদের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ