নোয়াখালীতে ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষককে গণপিটুনি
নোয়াখালী সদর উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নে ৯ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মাওলানা মোবারক হোসেন এমরান (৪৫) নামের এক শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। এর আগে স্থানীয়রা তাকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
বর্তমানে পুলিশি পাহারায় ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ওই শিক্ষকের চিকিৎসা চলছে।
আটক মোবারক হোসেন অশ্বদিয়া ইউনিয়নের গোলাম কিবরিয়ার ছেলে। তিনি ওই শিশুটির মাদ্রাসার শিক্ষক। ভুক্তভোগী শিশুটি ওই মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
শিশুটির পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস ধরে শিশুটি পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে পড়ায় পরিবারের সদস্যরা এর কারণ জানতে চান। সম্প্রতি তার শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) তার মা মাইজদীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে পরীক্ষা করান।
পরিবারের দাবি, পরীক্ষায় নির্যাতনের আলামত পাওয়ার পর শিশুটি পরিবারের কাছে জানায়, প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস ধরে ওই শিক্ষক বিভিন্ন সময় তার ওপর ধর্ষণ করে আসছেন। এর মধ্যে শিক্ষক নিজ বাসায় প্রাইভেট পড়ানোর সময়ও ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিষয়টি জানাজানি হলে মঙ্গলবার রাতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তারা মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে গণপিটুনি দেন। খবর পেয়ে সুধারাম মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী শিশুটির মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। অভিযুক্ত শিক্ষককে পুলিশ হেফাজতে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।
মতামত দিন