টঙ্গীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মাদ্রাসাছাত্র, মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ
গাজীপুরের টঙ্গীতে সড়ক দুর্ঘটনায় তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইয়াসিন আলী (১৭) নিহত হওয়ার ঘটনায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। রোববার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে গাজীপুরা এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। বিকেল ৩টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের অবরোধ চলছিল। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়ে দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। দূরপাল্লার বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী ও চালকেরা এতে দুর্ভোগে পড়েছেন।
নিহত ইয়াসিন আলী পাবনার সুজানগর থানার নেয়াপাড়া এলাকার রিপন মিয়ার ছেলে। পরিবারের সঙ্গে সে টঙ্গীর গাজীপুরা কাজীপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকত। সে তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
শিক্ষার্থীরা জানান, শনিবার সন্ধ্যায় মাদ্রাসার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইয়াসিন গাজীপুরা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক পার হওয়ার সময় একটি কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়। পরে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়। এর প্রতিবাদে রোববার সকালে তারা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
দুর্ঘটনার পর কাভার্ড ভ্যানটির চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। তবে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে কাভার্ড ভ্যানটি জব্দ করে টঙ্গী পূর্ব থানায় নিয়ে গেছে। পালিয়ে যাওয়া চালককে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা গাজীপুরা এলাকায় দ্রুতগতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণে স্পিডব্রেকার বা কার্যকর গতিরোধক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের নিরাপদে মহাসড়ক পারাপারের জন্য সেখানে একটি ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি তাদের।
শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে। দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী যানসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন আটকে থাকায় যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ অবস্থান নেয় এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে অবরোধ তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে।
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর জব্দ করা কাভার্ড ভ্যানটি থানায় রাখা হয়েছে এবং পালিয়ে যাওয়া চালককে শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা চলছে।
মতামত দিন