Views Bangladesh Logo

জয়পুরহাটে মাদরাসাছাত্রকে বেত্রাঘাত, অভিযুক্ত শিক্ষক পলাতক

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় ১০ বছর বয়সী এক মাদরাসা ছাত্রকে বেত দিয়ে পিটিয়ে জখম ও কক্ষে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উত্তেজিত জনতা মাদরাসার প্রধান শিক্ষক মুহতামিমকে অবরুদ্ধ করে মারধর করার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার সোনামুখী ইউনিয়নের শিমুলতলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত ছাত্রের নাম নাহিদ হাসান। সে রামশালা দারুল উলুম হাফেজিয়া ও নূরানি কওমি মাদরাসার ছাত্র এবং মিজানুর রহমানের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে পড়া বলতে না পারায় মাদরাসার শিক্ষক আবু হুরায়রা নাহিদকে বেত দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখেন। বিকেলে নাহিদের বাবা মাদরাসায় খাবার নিয়ে গেলে অন্য ছাত্রদের মাধ্যমে জানতে পারেন তার ছেলেকে আটকে রাখা হয়েছে। পরে ছেলেকে উদ্ধার করে তার শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান তিনি। তাৎক্ষণিক তাকে স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়।

পরে ঘটনাটি জানাজানি হলে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মাদরাসায় চড়াও হয়। তবে এর আগেই অভিযুক্ত শিক্ষক আবু হুরায়রা পালিয়ে যান। উত্তেজিত জনতা মাদরাসার মুহতামিম ওমর ফারুককে পল্লী চিকিৎসকের দোকানে নিয়ে এসে অবরুদ্ধ করে রাখে এবং তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছনা করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মুহতামিমকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

নাহিদের বাবা মিজানুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘শাসন করবে তাতে আমার আপত্তি নেই। কিন্তু আমার ছেলেকে যেভাবে অমানবিক পৈশাচিকতায় মারা হয়েছে, তা অমানবিক। এভাবে মারা হয় না। শিক্ষকরা আমাকে না জানিয়ে উল্টো ওই শিক্ষককে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছেন। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

স্থানীয় বাসিন্দা মহসিন আলী অভিযোগ করেন, ওই মাদরাসায় প্রায়ই ছাত্রদের মারধর করা হয়। এর আগে কর্তৃপক্ষকে জানালেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।

মাদরাসার মুহতামিম ওমর ফারুক জানান, ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষক পালিয়ে গেছেন। তবে তাকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করার অভিযোগটি অস্বীকার করেন তিনি।

মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান ছাত্রের শরীরের অবস্থা দেখে স্তম্ভিত হয়ে যান এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

এ ব্যাপারে আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন রেজা বলেন, ‘ছাত্রকে বেত্রাঘাতের ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা প্রধান শিক্ষককে আটক করে রেখেছিল। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ