Views Bangladesh Logo

ভোলায় লঘুচাপে ৫ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

ঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে ভোলায় ঘূর্ণিঝড় ও অতিজোয়ারের পানি আঘাত হেনে প্রায় ৫ হাজার ২০০টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে চরফ্যাশন, মনপুরা ও তজুমদ্দিন উপজেলায়। ঝড়ে বহু ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ার পাশাপাশি সহস্রাধিক গবাদিপশুও ভেসে গেছে। অনেক এলাকা এখনো পানিবন্দী, বাস্তুহারা পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছে।

ইউএনবির খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার সকাল থেকে জেলায় বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছিল। দুপুরের পর বৃষ্টি ও নদীর পানি অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন স্থানে জোয়ারের পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এতে ঢালচর, চর কুকরি-মুকরি, মুজিবনগর, রাজাপুর, লালমোহন, ধলীগৌরনগর, চরভূতা, পশ্চিম চরউমেদ, সৈয়দাবাদ, চরকচুয়াখালীসহ বহু এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভেঙে যায় লালমোহন ও তজুমদ্দিনের বেড়িবাঁধের অংশ। ইলিশা লঞ্চঘাটের পাঁচটি পল্টনও বিধ্বস্ত হয়েছে। চরাঞ্চলে ভেসে গেছে বহু গরু-ছাগল, মাছ ও মহিষ।

চরফ্যাশনের ঢালচরে সবচেয়ে বেশি ঘরবাড়ি ধসে পড়ে। শরিফুল ইসলাম নামের এক বাসিন্দা জানান, দুপুরে আবারও জোয়ারের পানিতে লোকালয় প্লাবিত হয়, বহু ঘরবাড়ি ভেঙে যায়। লালমোহনের কিছু এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে দুইটি গ্রাম প্লাবিত হয়, অন্তত ২০টি বাড়ি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়। মনপুরার কলাতলির চর ও বেড়িবাঁধের বাইরের গ্রামগুলোতেও ৩ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসনা শারমিন মিথি জানান, তিনটি ইউনিয়নে শতাধিক ঘর সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে, ৭-৮ শতাধিক গবাদিপশু ভেসে গেছে। ৫০০ প্যাকেট খাদ্যসামগ্রী বিতরণ শুরু হয়েছে। মনপুরা উপজেলার ইউএনও লিখন বনিক জানান, কলাতলি ইউনিয়নে বাঁধ না থাকায় বহু ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। এখনও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা পাওয়া যায়নি।

ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, মেঘনার অস্বাভাবিক জোয়ারে লালমোহনের সৈয়দাবাদ ও তজুমদ্দিনের চাঁদপুর এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। লালমোহনে ২০ মিটার ও তজুমদ্দিনে ১৫ মিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লালমোহনের বাঁধ ইতোমধ্যে সংস্কার করা হয়েছে, তজুমদ্দিনে কাজ চলছে।

ভোলা জেলা প্রশাসক আজাদ জাহান জানান, ৫ হাজার ২০০টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এর মধ্যে ২০৪টি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ঢালচর, চর পাতিলা ও কুকরী-মুকরীতে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হচ্ছে এবং শুকনো খাবার বিতরণ শুরু হয়েছে। স্থানীয়রা দাবি জানিয়েছেন, এমন দুর্যোগ থেকে রক্ষায় ভোলায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ জরুরি।


মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ