সাভারে ‘প্রেশারকুকার বোমা’ নিষ্ক্রিয়ের সময় বিকট শব্দ, কেঁপে উঠল এলাকা
সাভারের সাধাপুর এলাকায় মসজিদের মাঠে পাওয়া কালো স্কচটেপে মোড়ানো একটি প্রেশারকুকারকে শক্তিশালী বোমা হিসেবে শনাক্ত করেছে পুলিশ। পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করে।
বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেল ৩টা ২৮ মিনিটের দিকে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করার সময় বিকট শব্দ হয়। এতে আশপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে এবং ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে থাকা স্থানীয়দের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় আকাশের দিকে সাদা ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়।
ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে থাকা ব্যবসায়ী নিবীর হোসেন বলেন, এত শক্তিশালী বোমা, তা জানা ছিল না। যখন নিষ্ক্রিয় করা হয়, তখন বিকট শব্দে এলাকা কেঁপে ওঠে। আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি।
সাভারের ভবানীপুর পুলিশ ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকা উপপরিদর্শক (এসআই) ইমরান হোসেন জানান, বেলা পৌনে ২টার দিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট ঘটনাস্থলে আসে। পরে নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার পর বিকেল ৩টা ২৮ মিনিটের দিকে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করা হয়।
সাভার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বলেন, বোমাটি নিষ্ক্রিয় করার সময় বিকট শব্দে এলাকা কেঁপে ওঠে। এটি অনেক ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বোমা। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিস্তারিত জানাবেন।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সাধাপুর গোপের বাড়ি লালটেক ঘোড়া মসজিদের মাঠে স্থানীয়রা একটি নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রাম দেখতে পান। ড্রামের ভেতরে কালো স্কচটেপে মোড়ানো একটি প্রেশারকুকার ছিল। পরে স্থানীয়রা ড্রাম থেকে প্রেশারকুকারটি বের করে মসজিদের মাঠে রেখে পুলিশকে খবর দেন।
এসআই ইমরান হোসেন জানান, বুধবার সকাল ৮টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কালো স্কচটেপে মোড়ানো প্রেশারকুকারটি দেখতে পায়। এরপর বিষয়টি বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটকে জানানো হয়।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার বরাত দিয়ে পুলিশ আরও জানায়, তিনজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি রাতে প্লাস্টিকের ড্রামটি মসজিদের মাঠে রেখে গেছেন। তবে তারা কারা, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।
বেলা পৌনে ২টার দিকে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর পুরো এলাকা জনশূন্য করা হয়। আশপাশের লোকজনকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়ার পর প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করা হয়।
বোমাটি কোথা থেকে আনা হয়েছিল, কারা এটি সেখানে রেখে গেছে এবং এর উদ্দেশ্য কী ছিল—এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
মতামত দিন