তারেক রহমানের সঙ্গে শিগগিরই সাক্ষাতের প্রত্যাশা ট্রাম্পের, বোয়িং কেনার সিদ্ধান্তে ধন্যবাদ
শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের আশা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সোমবার (৩১ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো এক চিঠিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই প্রত্যাশার কথা জানান। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য জানান।
চিঠিতে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গেলেও তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ও এ দেশের জনগণের একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন। চিঠিতে তিনি বাংলাদেশের জনগণের প্রতি তার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসার কথাও জানান।
এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, বোয়িং বাংলাদেশকে হতাশ করবে না। একইসঙ্গে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত মনোযোগের কথা তিনি সবসময় মনে রাখবেন বলেও উল্লেখ করেন।
এর আগে গত রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গোর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবদান তুলে ধরতে গিয়ে বাংলাদেশের কাছে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ বিক্রির প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। তিনি জানান, চলতি সপ্তাহেই ট্রাম্প ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হয়েছে, যার আওতায় বাংলাদেশ কয়েক বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
বিশেষ দূতের ওই বক্তব্যের একদিন পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এদিকে সোমবার ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের সমন্বয় সভায় বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
মন্ত্রী বলেন, ট্রাম্পের অনুরোধ অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কিনছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রীর কাছে ট্রাম্প বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়েছিলেন। সেই অনুযায়ী ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে এবং আরও কিছু উড়োজাহাজ লিজ নেওয়া হবে।
বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কিনতে গত ৩০ এপ্রিল মার্কিন প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তি করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। চুক্তি অনুযায়ী, এসব উড়োজাহাজ কিনতে বাংলাদেশের ব্যয় হবে ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৩ পয়সা হিসাবে এ অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে।
চুক্তির আওতায় ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে ১৪টি উড়োজাহাজ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কাছে সরবরাহ করবে বোয়িং। এদিকে ট্রাম্পের চিঠি ও বিশেষ দূতের বক্তব্যের পর বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ কেনাবেচার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
মতামত দিন