ছয় মাসের মাথায় এমন কী ঘটেছে যে লংমার্চ করতে হবে, প্রশ্ন প্রতিমন্ত্রীর
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেছেন, লংমার্চের সুযোগ নিয়ে ফ্যাসিবাদের দোসররা বিভিন্ন এলাকায় মিছিল করছে এবং দেশকে অস্থির করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এ পরিস্থিতিতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়নের গোছামারা এলাকায় তাহমিনা মোছলেহ উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
বিরোধী দলের লংমার্চ প্রসঙ্গে শরীফুল আলম বলেন, পাঁচ বছরের জন্য জনগণ সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছে। কিন্তু ছয় মাসের মাথায় এমন কী ঘটেছে যে লংমার্চ করতে হবে? বর্তমান সংকটের সময়ে লংমার্চে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল খরচ হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, উত্তরাধিকার সূত্রে তেল ও গ্যাসের সংকট তৈরি হয়েছে—সরকার তা স্বীকার করে। তবে স্থায়ীভাবে এ সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে। তার ভাষ্য, লংমার্চের মাধ্যমে ছয় মাসের মধ্যে সরকারকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। জনগণকে সাময়িকভাবে কষ্ট দেওয়া গেলেও বিভ্রান্ত করা যাবে না।
তিনি বলেন, সরকার কাজ করে যাচ্ছে এবং এর মধ্য দিয়েই প্রমাণ হবে তারেক রহমানের সরকার জনগণের জন্য কী কী করছে।
জনগণের কাছ থেকে ম্যান্ডেট নিয়েই তারা ক্ষমতায় এসেছেন উল্লেখ করে শরীফুল আলম বলেন, জনগণের চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হলে আগামী দিনে জনগণই তার জবাব দেবে।
বিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পৌরসভার কাছাকাছি গোছামারা এলাকার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমন দুর্দশা, ভেতরে না এলে তা বোঝার উপায় নেই। জরাজীর্ণ ভবনের পাশাপাশি বিদ্যালয়টিতে খেলার মাঠও নেই।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে তাহমিনা মোছলেহ উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ১ কোটি ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ে চারতলা ভিত্তির ওপর একতলা ভবন নির্মাণ করা হবে।
এর আগে সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ভবনটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রতিমন্ত্রী। পরে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ভৈরব হাইওয়ে থানার পেছন থেকে স্টেডিয়াম মোড় পর্যন্ত সড়কের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন তিনি।
দুপুরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে আয়োজিত কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন শরীফুল আলম। সেখানে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী বৃত্তি পরীক্ষায় সাফল্য অর্জনকারী ১৬২ শিক্ষার্থীর হাতে ক্রেস্ট ও একটি করে ফলজ-বনজ গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে ভৈরব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুছা শেখ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলাম, ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ভিপি মো. মুজিবুর রহমান, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ভিপি সাইফুল হকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মতামত দিন