Views Bangladesh Logo

নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন চান দেশের একমাত্র হিজড়া প্রার্থী রানী

গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারা দেশে হিজড়া জনগোষ্ঠী থেকে একমাত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আনোয়ারা ইসলাম রানী। তিনি রংপুর-৩ আসন থেকে হরিণ প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।

বিভাগীয় নগরী রংপুরের গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে আটজন প্রার্থীর মধ্যে ভোটারদের কাছে রানী বেশ পরিচিত মুখ। এর আগেও সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। ভিন্ন লিঙ্গ পরিচয়ে তার প্রার্থিতা সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে।

সবশেষ ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রানী ঈগল প্রতীক নিয়ে ২৩ হাজার ভোট পান। ওই নির্বাচনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের ৮১ হাজার ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মৌলিক অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এবারও নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন রানী। তার এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে সাহসী ও তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন জেন্ডার বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

নির্বাচনী প্রস্তুতি ও ভোটের পরিবেশ নিয়ে আনোয়ারা ইসলাম রানী বলেন, জন্মের পর থেকেই লিঙ্গ পরিচয়ের কারণে বৈষম্যের মুখে পড়তে হয়েছে। শৈশব ও কৈশোর কেটেছে প্রতিকূল পরিবেশে।

তিনি বলেন, সমাজের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে ২০০৯ সালে ‘ন্যায় অধিকার তৃতীয় লিঙ্গ উন্নয়ন সংস্থা’ প্রতিষ্ঠা করি। এই সংগঠনের মাধ্যমে ইতোমধ্যে হিজড়া জনগোষ্ঠীর ৪০০ মানুষের মধ্যে ৬০ জনের কর্মসংস্থান এবং ৩২ জনের পড়াশোনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

রানী বলেন, দেশের বেদে, দলিত, সাঁওতাল, হিজড়া, সংখ্যালঘু ও অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ভোটে নির্বাচিত হলেও সংসদে গিয়ে তাদের কথা কেউ বলে না। আমি এসব জনগোষ্ঠীর মুখপাত্র হয়ে সংসদে তাদের মৌলিক অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে কাজ করতে চাই।

নির্বাচিত হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য, বাসস্থান ও নিরাপত্তাসহ মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ এবং রংপুরের অবকাঠামোগত উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার করেন তিনি। শ্যামাসুন্দরী খাল দখলমুক্ত করা, পরিকল্পিত নগরায়ণ, গ্যাস সংযোগ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথাও জানান।

৩৩ বছর বয়সী আনোয়ারা ইসলাম রানী অষ্টম শ্রেণি পাস। রংপুর নগরীতে জন্ম ও বেড়ে ওঠা তার। দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তিনি বলেন, কোনো দলের প্রতি দায়বদ্ধ না থাকায় মানুষের স্বার্থে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারব।

ভোটের পরিবেশ প্রসঙ্গে রানী অভিযোগ করেন, এখনো সবার জন্য সমান সুযোগ নেই। কিছু প্রার্থীর মারমুখী আচরণে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

এবার রংপুর-৩ আসনে রানীর পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জাতীয় পার্টির জি এম কাদের, বিএনপির সামসুজ্জামান সামু, জামায়াতে ইসলামীর মাহবুবুর রহমান বেলালসহ আরও কয়েকজন প্রার্থী।

তবে নির্বাচনের ফলাফল যা-ই হোক, আনোয়ারা ইসলাম রানীর প্রার্থী হওয়াকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

সুজন রংপুর জেলা সাধারণ সম্পাদক নাসিমা আমিন বলেন, অবহেলিত জনগোষ্ঠীকে নিয়ে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে রানীর লড়াই অনুপ্রেরণার। জনপ্রতিনিধি হয়ে সমাজ পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা নিঃসন্দেহে সাহসিকতার প্রকাশ।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্যমতে, রংপুর-৩ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৮ হাজার ২৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫২ হাজার ৩৭০ জন, নারী ২ লাখ ৫৫ হাজার ৮৪৯ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৫ জন।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ