দলীয় প্রতীক না থাকায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন চ্যালেঞ্জিং হবে: পানিসম্পদমন্ত্রী
দলীয় প্রতীক না থাকায় আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন বেশি চ্যালেঞ্জিং হবে বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটা চ্যালেঞ্জের নির্বাচন ছিল। ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনও আরেকটা কঠিন চ্যালেঞ্জ হবে। এখানে কোনো দলীয় মার্কা নেই। তার কারণে এটা আরও কঠিন হবে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার হাজী ফতেহ মোহাম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসার বার্ষিক ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, নির্বাচিত স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি না থাকায় আমরা পদে পদে বিপদে পড়ছি। ১৭-১৮ বছর এ প্রক্রিয়ার কারণেই তৃণমূল পর্যায়ে গ্রামীণ এলাকা নানাবিধ সমস্যার সম্মুখিন। আমরা নির্বাচিত হয়েছি দুই মাস হয়েছে। দেশে স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি খুব একটা নেই। এলাকার চেয়ারম্যান নেই, মেম্বার নেই। অনেকে পলাতক আছেন, অনেকে কাজ করার মতো সুযোগ নেই, কাজও হচ্ছে না। যারা আছে তাদেরকে আমরা সবাই সহযোগিতা করবো।
নির্বাচন ও প্রার্থী বাছাই প্রসঙ্গে লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘আগামীতে প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন হবে। দলের পক্ষে যিনি চেয়ারম্যান নির্বাচন করতে চান, সেই ব্যক্তি যেন জনবান্ধব হয়, জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয় এবং সাধারণ মানুষের প্রয়োজনে কাজ করেন। কাজ করে এসেছেন, মানুষের খোঁজ খবর রাখেন এবং রাখবেন- এ বিষয়গুলোর দিকে নজর রেখেই যেন তিনি প্রার্থী হন। দলের মধ্যে দুইজন তিনজন প্রার্থী হয়ে যাবেন, নির্বাচিত হতে পারবেন না। সুতরাং এটাও এখন মাথায় রাখতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বার খুব গুরুত্বপূর্ণ। এটাকে হালকা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। কারণ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে আমার আপনার ভাগ্য জড়িত। ওই লোকগুলো ভালো হলে আমাদের সবার অবস্থাও ভালো হবে। কোনো কারণে ওই লোকগুলো যদি কোনোভাবে ভালো না হয়ে নিজের জন্য হয়, আমরা বিপদে পড়ে যাবো। তাহলে আমরা এখন থেকে সজাগ এবং সতর্ক থাকবো।
এর আগে দিঘলী ওয়াপদাখাল ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন এবং দ্রুত সংস্কারে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদমন্ত্রীর একান্ত সচিব জামশেদ আলম রানা, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা, বাফুফের সহসভাপতি ওয়াহিদ উদ্দীন চৌধুরী হ্যাপী এবং দিঘলী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম সারোয়ার প্রমুখ।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে