জানুয়ারির মধ্যে সব উপজেলা-হাটবাজারে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের নির্দেশ
স্থানীয় সরকারের আওতাধীন সব স্থাপনা, হাট ও বাজারে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের জরুরি নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে এসব স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দেশের সব উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
চিঠিতে বলা হয়েছে, টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সরকার ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে প্রতিটি হাট ও বাজারের স্থায়ী শেডের ছাদের আয়তন বিবেচনায় নিয়ে সেখানে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে। একইভাবে বিভিন্ন বাজারে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্মিত চার থেকে পাঁচতলা ভবনের ছাদেও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের কথা বলা হয়েছে। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে নিজস্ব চাহিদা পূরণের পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ ছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের স্থানীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিদ্যমান প্রধান কার্যালয় এবং অধীনস্থ ভবনগুলোর ছাদে ব্যাটারিসহ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছিলেন, স্থানীয় সরকারের ৬ হাজার ৫৪৪টি প্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ কর্মসূচির জন্য ৩৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি জানান, দেশের সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ, নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যালয়, ওয়াসা, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলসহ স্থানীয় সরকারের আওতাধীন হাট, বাজার ও গ্রোথ সেন্টার মিলিয়ে মোট ৬ হাজার ৫৪৪টি প্রতিষ্ঠান এ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের আলাদা চিঠির মাধ্যমে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৭ জানুয়ারির মধ্যে কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এ কাজের জন্য ৩৭০ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে।
মতামত দিন