এলপিজির ওপর অতিরিক্ত কর প্রত্যাহারের দাবি লোয়াবের
এলপিজির ওপর অতিরিক্ত কর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে এলপিজি অপারেটস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব)। বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানায় সংগঠনটি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এলপিজির মতো একটি পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ ভোক্তার ক্রয়সীমার ক্ষেত্রে চরম আঘাত হেনেছে। এতে এলপি গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে গ্রাহক কাঠখড়ি পোড়াতে উৎসাহিত হবে যা পরিবেশের বিপর্যয় ঘটিয়ে জনস্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
লোয়াব বলছে, এলপিজি একটি নিরাপদ এবং অপরিহার্য জ্বালানি হিসাবে বাংলাদেশে বহুলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সারাদেশে এলপিজি ব্যবহারকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। সহজলভ্য জ্বালানি হিসাবে এটা ভোক্তার অন্যতম পছন্দ। শুধু বাংলাদেশেই নয়, পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার কারণে এলপিজি বিশ্বব্যাপীই সচেতন জনগণের অন্যতম পছন্দসই জ্বালানিতে পরিণত হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ ছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার পরিবেশবান্ধব এলপিজি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নানাবিধ প্রণোদনা দিচ্ছে। জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশে এলপিজি অসামান্য ভূমিকা রেখে চলেছে।
এতে বলা হয়, এলপি গ্যাসের ক্ষেত্রে শুরুতে ট্যারিফ মূল্যের উপর ১৫ শতাংশ মূসক প্রযোজ্য ছিল, যার ফলে প্রতি ১২ কেজির ট্যারিফ ভ্যালু ধরা ছিল ৬০ টাকা এবং এর উপর ১৫ শতাংশ হারে সর্বমোট ৯ টাকা মূসক একজন ভোক্তাকে পরিশোধ করতে হতো। পরবর্তীতে উৎপাদন/বোতলজাতকরণ পর্যায়ে ৫ শতাংশ এবং ব্যবসায়ী পর্যায়ে ২ শতাংশ অর্থাৎ সর্বমোট ৭ শতাংশ মূসক আরোপ করা হয় যা জ্বালানি গ্রাহকদের জন্য অতিরিক্ত করের বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।
সম্প্রতি ব্যবসায়ী পর্যায়ে ২ শতাংশ মূসক রহিত করে উৎপাদন/বোতলজাতকরণ পর্যায়ে ৫ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ৭.৫ শতাংশ করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে একজন ভোক্তাকে প্রতি ১২ কেজির উপর সর্বমোট ৯৫ টাকা মূসক প্রদান করতে হচ্ছে যা তার পক্ষে কোনমতেই বহনযোগ্য নয়। এমন পরিস্থিতিতে এলপিজির ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ প্রত্যাহার করে আগের মতো ট্যারিফ মূল্যের ওপর মূসক কর্তনের নিয়ম প্রবর্তনের আহ্বান জানিয়েছে লোয়াব।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে