দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় ফের কমল এলএনজি সরবরাহ
বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের প্রভাবে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া থাকায় মহেশখালীর ভাসমান টার্মিনালে এলএনজি সরবরাহে আবারও বিঘ্ন ঘটেছে। নির্ধারিত সময়ে আসা একটি এলএনজিবাহী কার্গো ২৪ ঘণ্টা চেষ্টা করেও টার্মিনালে যুক্ত হতে পারেনি। ফলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার ১০ দিনের মাথায় আবারও কমেছে এলএনজি ও জাতীয় সঞ্চালন লাইনের গ্যাস সরবরাহ।
পেট্রোবাংলার হিসাবে, বুধবার এলএনজি থেকে ৯৮২ মিলিয়ন ঘনফুট এবং দেশীয় কূপ থেকে ১ হাজার ৬০৫ মিলিয়ন ঘনফুট—মোট ২ হাজার ৫৮৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সরবরাহ কমে দাঁড়ায় ২ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুটে।
পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, কক্সবাজারের মহেশখালী এলাকায় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে আমদানি করা এলএনজি কার্গো থেকে ভাসমান টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে পুনঃগ্যাসীকৃত এলএনজিসহ সামগ্রিক গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কমেছে। আবহাওয়ার উন্নতি হলে দ্রুত সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এলএনজি পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত এক কর্মকর্তা জানান, বুধবার সামিট এলএনজি টার্মিনালের জন্য নির্ধারিত একটি কার্গো এলেও অতিরিক্ত বাতাসের কারণে তিনবার চেষ্টা করেও সেটিকে টার্মিনালে যুক্ত করা যায়নি। ফলে সামিটের টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে ৫৮০ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।
ওই কর্মকর্তা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে বাতাসের গতি কিছুটা কমেছে। রাতে আবার কার্গোটি টার্মিনালে যুক্ত করার চেষ্টা করা হবে।
এর আগে নানা কারণে প্রায় দুই মাস এলএনজি সরবরাহে বিঘ্নের পর ১১ সেপ্টেম্বর থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছিল। টানা ১০ দিন দৈনিক প্রায় ২ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস সরবরাহ হলেও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে আবারও তা কমে গেল।
গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে সরবরাহ কমে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বাসাবাড়ির গ্যাসের চাপও কমেছে।
মতামত দিন