ভোটের আগে দেশজুড়ে ৩ হাজার অস্ত্রধারী ও অপরাধীর তালিকা, ৩৫২ ‘শুটার’
জাতীয় নির্বাচনের মাত্র পাঁচ দিন বাকি থাকতেই সারা দেশে অস্ত্রধারী ও শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তালিকা তৈরি করেছে দুটি গোয়েন্দা সংস্থা। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই তালিকায় মোট প্রায় তিন হাজার অপরাধীর নাম রয়েছে। এর মধ্যে ১২৪ জন জঙ্গি এবং ৩৫২ জনকে ‘শুটার’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার মুন্সিকান্দি এলাকায় গত শনিবার বিএনপির প্রার্থী ও দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মী–সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে গুলি ছোড়া হয়। পুলিশ চারজন অস্ত্রধারীকে শনাক্ত করেছে, যার মধ্যে একরাম দেওয়ানও রয়েছেন। এখন পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।
ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী শেখ মোহাম্মদ আসলাম বা সুইডেন আসলামের বিরুদ্ধে ৯টি হত্যা মামলাসহ ২২টি মামলা রয়েছে। দীর্ঘ ২০ বছর সাজা খেটেও ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে জামিনে মুক্ত হওয়ার পরও তিনি আবারও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। একইভাবে, পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের সামনে প্রকাশ্যে হত্যা হওয়া তারিক সাইফ মামুনের প্রতিপক্ষ রনিও তালিকায় আছে।
শুধু একরাম, সুইডেন আসলাম ও রনি নয়, শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমামুল হোসেন ওরফে পিচ্চি হেলাল, শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ওরফে ইমন, এস এম আরমান, খোরশেদ আলম ওরফে ফ্রিডম রাসুসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় তিন হাজার অস্ত্রধারী, শুটার ও জঙ্গির নাম তালিকাভুক্ত। পুলিশ সদর দপ্তর নির্বাচনের আগে তাদের আইনানুগ ব্যবস্থার জন্য ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার ও আটটি মহানগর পুলিশের কমিশনারকে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে।
ফেব্রুয়ারির শুরুতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানার চন্দ্রিমা উদ্যান এলাকায় অভিযান চালিয়ে জেএমবি সদস্য আহসান জহীর খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তার সহযোগী বেলায়েত হোসেন এবং ৩ ফেব্রুয়ারি তোফায়েল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের এজাহারে উল্লেখ, আসামিরা হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করত এবং রাষ্ট্রবিরোধী নাশকতার পরিকল্পনা করছিল।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে যেসব ব্যক্তি নানা ধরনের অপরাধে জড়িয়েছে, অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হয়েছে, বা রাজনৈতিক সহিংসতায় দেখা গেছে, তাদের শনাক্ত করে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে অনেকেই ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছে, কেউ জামিনে মুক্ত, আবার কেউ পলাতক। বিশেষভাবে পলাতক জঙ্গি ও গ্রেপ্তার এড়িয়ে থাকা ব্যক্তিদের ধরতে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
ঢাকা মহানগরে ১১৫ জন, চট্টগ্রামে ১৮০ জন, খুলনায় ৪২ জন, রাজশাহীতে ৪০ জন, বরিশালে ১২ জন, গাজীপুরে ২০ জন এবং সিলেটে ৯০ জন অস্ত্রধারী ও অপরাধীর তথ্য তালিকাভুক্ত রয়েছে। দেশের ৬৪ জেলায় মোট প্রায় আড়াই হাজার ব্যক্তি এই তালিকায় আছেন।
পুলিশ বিশ্লেষণ করেছে, তালিকাভুক্ত অস্ত্রধারীদের অধিকাংশের রাজনৈতিক পরিচয় নেই। কেবল ২০ জনের রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ রয়েছে, যার মধ্যে ১৯ জন নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের এবং একজন চট্টগ্রাম মহানগরের ছাত্রদলের সদস্য।
পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম জানিয়েছেন, 'নির্বাচনে সহিংসতা ও নাশকতা রোধে তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের নজরদারি সম্পূর্ণ প্রতিরোধমূলক এবং আইনানুগ। উদ্দেশ্য একটাই—নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা।'

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে