নিম্নমানের এআই কনটেন্ট ঠেকাতে নতুন রিপোর্টিং ফিচার আনল লিংকডইন
পেশাজীবীদের জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিংকডইনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি গতানুগতিক ও নিম্নমানের পোস্টের প্রসার ঠেকাতে নতুন একটি সুবিধা চালু করা হয়েছে। এখন থেকে সন্দেহভাজন এআই-নির্ভর পোস্ট সরাসরি প্ল্যাটফর্মে রিপোর্ট করতে পারবেন ব্যবহারকারীরা।
প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ৪০৪ মিডিয়ার বরাতে জানা গেছে, প্রতিটি পোস্টের পাশে থাকা তিন-ডট মেনুতে যুক্ত হয়েছে ‘সিমস লাইক এআই স্লপ’ নামে একটি নতুন অপশন। কোনো পোস্টকে অতিরিক্ত এআই-নির্ভর বা মানহীন মনে হলে এই অপশনের মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে পারবেন ব্যবহারকারীরা। অভিযোগ জমা দেওয়ার পর একটি নিশ্চিতকরণ বার্তা পাঠায় লিংকডইন এবং সংশ্লিষ্ট পোস্টটি অভিযোগকারীর নিউজ ফিড থেকে সরিয়ে ফেলা হয়।
সুবিধাটি পরীক্ষা করতে গিয়ে ৪০৪ মিডিয়া এমন একটি পোস্ট রিপোর্ট করে, যেখানে এআই-নির্ভর লেখার বহুল পরিচিত কিছু বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট ছিল—অস্বাভাবিক রকমের ফাঁকা জায়গা, অতিরিক্ত ইমোজির ব্যবহার, অপ্রয়োজনীয় তালিকাভিত্তিক উপস্থাপন এবং একই বাক্য বা শব্দের বারবার পুনরাবৃত্তি। অভিযোগ জমা দেওয়ার পর লিংকডইন তা গ্রহণ করে এবং পোস্টটি ফিড থেকে সরিয়ে দেয় বলে জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে।
এআই শনাক্তকরণ প্রতিষ্ঠান প্যাংগ্রামের সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, লিংকডইনের দীর্ঘ পোস্টের প্রায় ৪১ শতাংশ এবং ছোট পোস্টের প্রায় ৩০ শতাংশ সম্ভবত এআই দিয়েই তৈরি। এমন পরিস্থিতিতেই নতুন এই রিপোর্টিং সুবিধা চালুর সিদ্ধান্ত নিল প্ল্যাটফর্মটি। তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, নিম্নমানের এআই কনটেন্ট ঠেকানোর উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি নিজস্ব প্ল্যাটফর্মে জেনারেটিভ এআই সুবিধাও চালু রেখেছে লিংকডইন। প্রতিষ্ঠানটির এআই রাইটিং অ্যাসিস্ট্যান্ট ব্যবহারকারীদের প্রোফাইল, জীবনবৃত্তান্ত ও অন্যান্য পেশাগত লেখা তৈরিতে ব্যক্তিগতকৃত পরামর্শ দিয়ে থাকে, যার উদ্দেশ্য পেশাগত পরিচিতি আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরায় সহায়তা করা।
নতুন এই সুবিধা প্রসঙ্গে মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি লিংকডইন। তবে এর আগে প্যাংগ্রামের প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছিল, স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি নিম্নমানের কনটেন্টের প্রসার ঠেকাতে চলতি বছরের মে মাসে তাদের নীতিমালায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। লিংকডইনের ভাষ্য অনুযায়ী, পেশাজীবীরা এই প্ল্যাটফর্মে আসেন বাস্তব অভিজ্ঞতা, স্বতন্ত্র মতামত ও বিশ্লেষণ জানতে—তাই গতানুগতিক বা নিম্নমানের কনটেন্টের বদলে মানসম্মত ও অভিজ্ঞতাভিত্তিক আলোচনা সামনে আনতেই তারা নিয়মিত এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
মতামত দিন