মৃত্যুর আগে এমপি নজরুলের স্ত্রী মরিয়মের শেষ চিঠিগুলোতে যা লেখা ছিল
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া মরিয়ম খাতুনের হাতে লেখা চিঠিতে স্বামীর সঙ্গে তার সম্পর্কের নানা আবেগঘন মুহূর্তের কথা উঠে এসেছে। সাধারণ কাগজ ও জাতীয় সংসদের অফিশিয়াল প্যাডে লেখা চিঠির পাতায় ভালোবাসার পাশাপাশি প্রতারণার অভিযোগ, সম্পর্কের টানাপোড়েন, বিশ্বাসভঙ্গ এবং গভীর মানসিক কষ্টের বর্ণনা রয়েছে।
নিজেকে যেন দাবার গুটি হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার বেদনার কথাও লিখেছেন মরিয়ম খাতুন।
একটি চিঠিতে লেখা, শুধু মায়ায় পড়েছি বলে বারবার তোমার কাছে নত হই...., তা না হলে যতটা সস্তা ভাবছো ততটা সস্তা আমি নই...
আরেকটি চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘আমি অতি বিশ্বাস করে যুদ্ধে নেমেছিলাম তার সাথে, কিন্তু জিততে পারিনি হেরে গেলাম ময়দানে। জিতবোই বা কেমনে যুদ্ধের শেষ প্রান্তে এসে দেখি তুমিই তো ছিলে বিপক্ষ দলের সেনাপতি।’
সাধারণ একটি পাতায় নিজের অবস্থান ও ভালোবাসার টানাপোড়েনের কথা তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে লেখা- সে ছিল অন্য নারীর স্বামী- কাগজে-কলমে অধিকার ছিল তার বউয়ের। আর আমি ছিলাম বোকা...!!! অন্য কারও স্বামীকে বানিয়েছিলাম নিজের শখের পুরুষ...!!! কাউকে অর্ধেক পাওয়ার চেয়ে হারিয়ে ফেলা বেশি সম্মানের কারণ... ভালোবাসা কখনোই ভাগ করে নেওয়ার বিষয় নয়... ভালোবাসা হয় সম্পূর্ণ, না হয় অপূর্ণ!
বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে প্রতারিত হওয়ার অনুভূতিও প্রকাশ করা হয়েছে একটি পাতায়। সেখানে লেখা হয়েছে-‘সে বলেছিল- আজ থেকে আমরা বন্ধু--চলো একটা গেমস খেলি। আমিও সরল মনে বিশ্বাস করে রাজি হয়েছিলাম। কিন্তু কে জানতো- আমিই ছিলাম তোমার গেমসের দাবার এক গুটি।’
জাতীয় সংসদের প্যাডে লেখা অন্য একটি পাতায় ক্ষোভ ও পরিণতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘আমি হেরেছি--- তুমি জিতেছো-- কারণ, আমি তোমাকে বিশ্বাস করেছিলাম বলেই তো ঠকিয়ে জিততে পেরেছো। আমি, শৃঙ্গের শেষ বাড়িয়ে ও হাসতে হাসতে মুখে হাসি রেখেছি- দেখে নাও এই হাসির কারণই হবে তোমার ধ্বংসের কারণ।’
চিঠিগুলোর সঙ্গে ‘১২-০৭-২০২৬’ তারিখ সংবলিত একটি পাতাও পাওয়া গেছে। ওই পাতায় ঘুমানোর আগে করণীয় কয়েকটি ধর্মীয় আমলের তালিকা লেখা রয়েছে।
পাতাটিতে লেখা- ১২-০৭-২০২৬ ঘুমানোর আগে ৬টি আমল: কালেমা পড়ে, দুরুদ শরিফ, ঘুমের দোয়া, আয়াতুল কুরসি, বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম ২১ বার, আস্তাগফিরুল্লাহ ৩ বার, আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমুতু ওয়া এহিয়া, দুরুদ শরিফ ১১ বার, ইয়া আরহামার রাহিমিন ১১ বার।’
এর আগে রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মরদেহের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মতামত দিন