Views Bangladesh Logo

ফ্যামিলি কার্ড-কৃষক কার্ড নিয়ে চাঁদাবাজি করলেই মামলা: ডেপুটি স্পিকার

ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি বা চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বলে সতর্ক করেছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেছেন, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এ কর্মসূচির সুবিধা যাতে প্রকৃত উপকারভোগীরা পান, তা নিশ্চিত করতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলা হলরুমে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন ডেপুটি স্পিকার।

ফ্যামিলি কার্ডকে প্রধানমন্ত্রীর একটি বড় প্রকল্প হিসেবে উল্লেখ করে কায়সার কামাল বলেন, নির্বাচনি অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তাই তালিকা প্রণয়ন থেকে শুরু করে কার্ড বিতরণ পর্যন্ত কোনো পর্যায়েই অনিয়মের সুযোগ দেওয়া যাবে না।

তিনি বলেন, সারাদেশে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হওয়ার সময় কলমাকান্দাকেও এর আওতায় রাখা হয়েছিল। কিন্তু উপকারভোগীদের তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই-বাছাই হয়নি। বিশেষ করে যেসব পরিবার সবচেয়ে বেশি অসহায় এবং যাদের ঘরবাড়ির অবস্থা নাজুক, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, তালিকা তৈরির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কেউ কেউ অপেক্ষাকৃত সচ্ছল পরিবারের বাড়িতে গিয়ে তাদের আগে তালিকাভুক্ত করেছেন—এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রকৃত দরিদ্র ও ছিন্নমূল পরিবারকে বাদ দিয়ে কোনোভাবেই সুবিধাভোগীর তালিকা করা যাবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।

কায়সার কামাল বলেন, ‘কেউ স্বজনপ্রীতি করবেন না। অনিয়ম করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’ তাঁর দাবি, অতীতে বিএনপির নেতাকর্মীদের অনেকে এ ধরনের সরকারি সুবিধা পাননি। আবার তালিকায় নাম থাকার পরও প্রকৃত ব্যক্তির পরিবর্তে অন্য কেউ টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড বা কৃষক কার্ডের নামে কেউ চাঁদাবাজি করলে তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

অনিয়ম বা চাঁদাবাজির ঘটনা নজরে এলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানোর পাশাপাশি সরাসরি তাঁকেও অবহিত করার আহ্বান জানান ডেপুটি স্পিকার। তিনি বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের বিষয়েও সভায় কথা বলেন কায়সার কামাল। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী ও পরিবারগুলো পানীয় জল, যোগাযোগব্যবস্থা ও পড়াশোনাসহ বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। তাদের জন্য সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তিনি একাধিকবার অনুরোধ করেছেন। তাদের জন্য বরাদ্দ ও সহায়তার তালিকা তৈরিতেও যেন কোনো অনিয়ম না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক করেন তিনি।

সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম আব্দুল্লাহ আল মামুন, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল রানা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এমএ খায়ের, সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান ভূইয়াসহ দলীয় নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

পরে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী, বজ্রপাতে নিহতদের পরিবারের সদস্যসহ কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ