Views Bangladesh Logo

টানা বৃষ্টিতে পাহাড় ধস, বান্দরবানে বিপর্যস্ত জনজীবন

ঘুচাপের প্রভাবে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে জনজীবনে দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। প্রাণহানির শঙ্কায় পাহাড়ের পাদদেশে ঢালুতে ঝুঁকিপূর্ণ বসতিগুলো ছেড়ে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিচ্ছে প্রশাসন।

জেলার সাতটি উপজেলার ৩৪টি ইউনিয়নে ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাসহ দুর্গতদের সেগুলোতে আশ্রয় নিতে মাইকিং করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (৮ জুলাই) থেকে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সাঙ্গু ও মাতামুহুরি নদীর পানি বেড়ে বিপদসীমার কাছাকাছি দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বুধবার (৯ জুলাই) বিকেল তিনটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১০৭ মিলিমিটার মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

মঙ্গলবার গভীর রাতে রুমা উপজেলার সদর ইউনিয়নের আশ্রমপাড়ায় একটি পাহাড় ধসে পড়লে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

বুধবার সকালে লামা উপজেলার মিরিঞ্জায় পাহাড়ধসে সড়কে মাটি জমে যাওয়ায় লামা-আলীকদম ও মিরিঞ্জা পর্যটন সড়কে যোগাযোগ সাময়িক বন্ধ হয়ে যায়। উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় কয়েক ঘণ্টা পর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। এছাড়া রুমা-থানচি, লামা-সূয়ালক, রোয়াংছড়ি-রুমা, থানচি-আলীকদমসহ অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে ছোট-খাটো পাহাড়ধসে সড়কে কাদা মাটি জমে সড়কগুলো পিচ্ছিল ও বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে।

জেলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সনাতন কুমার মণ্ডল জানান, বৃষ্টিপাত আরও দু-একদিন অব্যাহত থাকবে। পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান নেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি জানান, নির্বাহী কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে পরিস্থিতি মোকাবিলায় নজরদারি বাড়ানোসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে সাতটি উপজেলা প্রশাসন। সার্বক্ষণিক যোগাযোগে হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ খুলেছে জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি। কয়েকটি স্থানে যোগাযোগ ব্যবস্থার অবনতি হলেও সড়ক সংস্কারে কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা।


মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ