Views Bangladesh Logo

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে মাটিচাপা আশ্রয়কেন্দ্র, ৫ জনের মৃত্যু, বহু হতাহতের আশঙ্কা

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে মাটিচাপা পড়েছে একটি মাদ্রাসা, যেটি দুর্যোগকালীন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। মাটির  নিচে আরও অনেকে চাপা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে উখিয়ার ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

তিনি জানান, ভারী বৃষ্টিতে হঠাৎ পাশের পাহাড় ধসে মাদ্রাসাটি চাপা পড়ে। এ পর্যন্ত ৫ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে ২ জনকে। মাদ্রাসাটি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হওয়ায় সেখানে অনেক রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছিলেন। ঠিক কতজন চাপা পড়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, মাদ্রাসাটিতে প্রায় ৫০ জন আশ্রয় নিয়েছিলেন। গত কয়েক দিনের পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ ঢাল থেকে সরিয়ে আনা রোহিঙ্গাদের অনেককেই এই আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছিল।  স্থানীয়দের দাবি, সেখান থেকে ১০ জনকে উদ্ধার করা গেছে। 

কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান বলেন, বুধবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৬ ঘণ্টায় মোট ৫১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ১২৯ মিলিমিটার।

টানা বর্ষণে গত কয়েক দিন ধরেই কক্সবাজারে একের পর এক পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটছে। রোববার দিবাগত রাত থেকে সোমবার ভোরের মধ্যে উখিয়ার ৭, ১১ ও ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক পাহাড়ধসে নারী-শিশুসহ ৮ জন এবং কক্সবাজার শহরে ১ জনের মৃত্যু হয়। সোমবার পেকুয়ায় পাহাড়ধসে মারা যায় এক শিশু। মঙ্গলবার দুপুরে সদরের দরিয়ানগরে পাহাড়ধসে প্রাণ হারান আরও এক নারী। এ ছাড়া বৃষ্টির পানিতে ডুবে এক রোহিঙ্গাসহ ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবারের ঘটনায় নিহত ৫ জনসহ গত চার দিনে জেলায় পাহাড়ধসে প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়াল অন্তত ১৬ জনে।

এদিকে মঙ্গলবার বিকেলে প্রকাশিত জাতিসংঘসংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ‘ইন্টার সেক্টর ফ্ল্যাশ’ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়, ৪ জুলাই রাত থেকে ৭ জুলাই সকাল পর্যন্ত উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে পাহাড়ধস, ঝড়ো হাওয়া ও আকস্মিক বন্যাসহ ১৬০টি দুর্যোগের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ১৬ হাজার রোহিঙ্গা, আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১ হাজার ৬০০টিরও বেশি বসতঘর। চরম ঝুঁকিতে থাকা ৩ হাজার ১৮২ জন রোহিঙ্গাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে বিপর্যস্ত ক্যাম্পগুলোর মধ্যে ৫ নম্বর ক্যাম্পও রয়েছে’ যেখানে আজ মাদ্রাসাধসের ঘটনাটি ঘটে।

ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বেড়ে যাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ ঢালে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে ক্যাম্প ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ