‘রাজশাহী সিল্কে’র ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের আহ্বান ভূমিমন্ত্রীর
রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী ‘রাজশাহী সিল্ক’ বা রেশম শিল্পের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাককে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু।
শুক্রবার ব্র্যাকের বার্ষিক প্রতিবেদন ২০২৫ প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, রাজশাহীর সোনালী আঁশ পাটের ঐতিহ্য কিছুটা টিকে থাকলেও রেশম শিল্প প্রায় বিলুপ্তির পথে। ব্র্যাকের সাংগঠনিক সক্ষমতা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক উদ্যোগ—বিশেষ করে ব্র্যাক ব্যাংক, বিকাশ, আড়ং, ব্র্যাক ফিন্যান্স ও গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্সের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এই শিল্প পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, ব্র্যাক যেন রাজশাহীর রেশম শিল্পকে আবার বিশ্ববাজারে পরিচিত করার দায়িত্ব নেয়।
অনুষ্ঠানে ভূমিমন্ত্রী দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্র্যাকের কার্যক্রমকে শ্রদ্ধার সঙ্গে দেখেন এবং স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারের সঙ্গে তাদের আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যাশা রয়েছে।
তিনি বলেন, ব্র্যাক বিশ্বজুড়ে কাজ করলেও দেশের ভেতরে, বিশেষ করে রাজশাহীর উন্নয়নে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখা জরুরি।
এছাড়া রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলের উন্নয়ন নিয়েও বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরা হয় অনুষ্ঠানে। এর মধ্যে ছিল কৃষিভিত্তিক রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (এগ্রো ইপিজেড), কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন, পান চাষে ভাইরাস সমস্যা সমাধানে গবেষণা, ভূগর্ভস্থ পানির সংকট মোকাবিলা এবং সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প সম্প্রসারণ।
অনুষ্ঠানে পবা-মোহনপুর আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন বরেন্দ্র অঞ্চলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি একটি বিশেষায়িত মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপনের দাবি জানান।
ব্র্যাকের ঊর্ধ্বতন পরিচালক কেএএম মোর্শেদ বলেন, ব্র্যাক একটি স্বতন্ত্র উন্নয়ন সংস্থা হিসেবে নিজস্ব সিদ্ধান্তে দেশ ও মানুষের প্রয়োজনে কাজ করে এবং তাদের অগ্রাধিকার বাংলাদেশের মানুষ।
অনুষ্ঠানে রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ ও বিভিন্ন পেশাজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।
ব্র্যাকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০২৫ সালে রাজশাহী বিভাগে ২০ হাজারের বেশি অতিদরিদ্র পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৮ হাজারের বেশি পরিবার দারিদ্র্য থেকে উত্তরণ করেছে। এছাড়া স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জলবায়ু সহনশীলতা ও কর্মসংস্থান খাতে লক্ষাধিক মানুষ বিভিন্ন সেবা পেয়েছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে