অক্টোবরে ঢাকা-সিলেট ছয় লেন প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ জট কাটবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
ঢাকা-সিলেট ছয় লেন মহাসড়ক নির্মাণ প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ নিয়ে চলমান জটিলতার বড় অংশ আগামী অক্টোবরের মধ্যে নিরসন হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি জানিয়েছেন, ২০২৮ সালের মধ্যে মহাসড়কের সিলেট অংশের কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। পুরো প্রকল্পের নির্মাণকাজ ২০২৮ সালের শেষ থেকে ২০২৯ সালের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে শেষ হতে পারে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সিলেটের ওসমানীনগরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ছয় লেন নির্মাণকাজের অগ্রগতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মন্ত্রী। এর আগে দক্ষিণ সুরমার লালাবাজার এলাকায় প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি ঘুরে দেখেন তিনি।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক প্রকল্পটি সিলেট অংশসহ বিভিন্ন এলাকায় ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হচ্ছে। সম্প্রতি সড়ক পরিবহনমন্ত্রী হবিগঞ্জ পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করেছেন। সংশ্লিষ্টদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের শেষ থেকে ২০২৯ সালের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে পুরো মহাসড়কের নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। সিলেট অংশের কাজ ২০২৮ সালের মধ্যেই শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভূমি অধিগ্রহণের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে। এ সংক্রান্ত ১১৩টি মামলার অধিকাংশ এরই মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে। বাকি মামলাগুলোও দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী অক্টোবরের মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত জটিলতার সিংহভাগ দূর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এ সময় সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসেইন, সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের মান নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। অনিয়ম ও দুর্নীতি ঠেকাতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রকল্পের অগ্রগতি ও কাজের গুণগত মান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা দরকার। স্থানীয় মসজিদের ইমাম, স্কুলের প্রধান শিক্ষক, অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী ও বিশিষ্ট নাগরিকদের নিয়ে তদারকি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি।
বুধবার সিলেট সদর উপজেলায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ‘সুরমা-কুশিয়ারা নদী অববাহিকার উন্নয়ন এবং বন্যা ও সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্প (১ম পর্যায়)’-এর আওতায় কানিশাইলে সুরমা নদীর ডানতীরে নদীতীর প্রতিরক্ষা কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, সিলেটের বন্যা ও জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় বড় ধরনের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় সুরমা নদীর দুই তীরে প্রায় ১৭ কিলোমিটার করে বাঁধ ও সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বন্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নগরবাসীর হাঁটার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে নদীকেন্দ্রিক পর্যটনের নতুন সম্ভাবনাও উন্মোচিত হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, সিলেটের উন্নয়ন কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। সরকার, সিটি করপোরেশন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব। সমন্বিত প্রচেষ্টায় নদীভাঙন, বন্যা ও জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান করে সিলেটের উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
মতামত দিন