২৯ বছরে পা রাখলেন কাইলি জেনার, বিতর্ক পেরিয়ে নিজেই এক সাম্রাজ্য
সৌন্দর্য, প্রেম, ব্যবসা আর বিতর্ক, কাইলি জেনারের জীবন যেন এই চার শব্দের চারপাশেই ঘুরছে। কার্ডাশিয়ান-জেনার পরিবারের পরিচিত মুখ হিসেবে কৈশোরেই খ্যাতি পান তিনি। তবে পারিবারিক জনপ্রিয়তার ওপর নির্ভর না করে নিজের নামেই গড়ে তুলেছেন প্রসাধনী ও ফ্যাশনের ব্যবসা। ১০ আগস্ট ২৯ বছরে পা দিয়েছেন এই মার্কিন তারকা। জন্মদিন উপলক্ষে বেভারলি হিলসের বাড়িতে ‘প্রিন্সেস কিটি’ থিমের পার্টির আয়োজন করেন তিনি। সেখানে পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনেরা উপস্থিত ছিলেন।
টেলিভিশনের রিয়েলিটি শো ‘কিপিং আপ উইথ দ্য কার্ডাশিয়ানস’-এর মাধ্যমে কাইলির পরিচিতি তৈরি হয়। ২০১৫ সালে নিজের অর্থ দিয়ে শুরু করেন ‘কাইলি কসমেটিকস’। প্রতিষ্ঠানটির প্রথম পণ্য ছিল লিপ কিট, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণার পর দ্রুত বিক্রি হয়ে যায়। প্রচলিত বিজ্ঞাপনের বদলে নিজের বিপুল জনপ্রিয়তাকে বিপণনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করাই তাঁর ব্যবসার অন্যতম সাফল্যের কারণ।
২০২০ সালে কাইলি কসমেটিকসের ৫১ শতাংশ অংশীদারত্ব প্রসাধনী প্রতিষ্ঠান কোটির কাছে ৬০০ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি করেন কাইলি। ২০১৯ সালে ফোর্বস তাঁকে বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী ‘সেলফ-মেড বিলিয়নিয়ার’ হিসেবে উল্লেখ করলেও পরের বছর তাঁর ব্যবসার আয় ও সম্পদের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলে সেই তালিকা থেকে সরিয়ে দেয়। কাইলি অবশ্য ফোর্বসের হিসাব ও অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন। ফোর্বসের ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, তাঁর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৬৭০ মিলিয়ন ডলার।
প্রসাধনীর পাশাপাশি ‘কাইলি স্কিন’ দিয়ে ত্বক পরিচর্যার ব্যবসায়ও প্রবেশ করেন তিনি। পরে পোশাক ও পানীয় ব্যবসাতেও যুক্ত হন। নিজের জনপ্রিয়তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিশাল অনুসারীভিত্তিকে কাজে লাগিয়ে কাইলি একের পর এক নতুন ব্যবসা দাঁড় করিয়েছেন। তাঁর ব্যবসায়িক কৌশল পরবর্তী সময়ে বহু তারকা ও কনটেন্ট নির্মাতার জন্যও উদাহরণ হয়ে ওঠে।
কাইলির ব্যক্তিগত জীবনও বরাবরই আলোচনায়। র্যাপার টাইগার ও ট্রাভিস স্কটের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল সংবাদমাধ্যমের নিয়মিত আলোচনার বিষয়। ট্রাভিস স্কটের সঙ্গে তাঁর দুই সন্তান স্টর্মি ও আইয়ার। ২০২৩ সালে অভিনেতা টিমোথি শ্যালামের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের খবর সামনে আসে। এরপর বিভিন্ন বড় আয়োজনে একসঙ্গে দেখা গেছে তাঁদের। তবে বিয়ে নিয়ে দুজন তাড়াহুড়ো করছেন না বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে।
ফোর্বসের সঙ্গে সম্পদের হিসাব নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি সৌন্দর্যচর্চা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রভাব এবং ব্যক্তিগত জেট ব্যবহারের মতো বিষয়েও বিতর্কে জড়িয়েছেন কাইলি। কৈশোরে ঠোঁটের পরিবর্তন নিয়ে সমালোচনার পর ২০১৫ সালে অস্থায়ী ফিলার ব্যবহারের কথা স্বীকার করেছিলেন তিনি। বর্তমানে ইনস্টাগ্রামে তাঁর অনুসারী প্রায় ৩৯ কোটি। ২৯ বছরে এসে কাইলি তাই শুধু কার্ডাশিয়ান পরিবারের তারকা নন, তিনি একজন উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, ফ্যাশন ও সৌন্দর্যজগতের প্রভাবশালী মুখ এবং দুই সন্তানের মা।
মতামত দিন