Views Bangladesh Logo

কলকাতার হোটেলে আগুন: ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন বেঁচে ফেরা ৩ বাংলাদেশি

ভারতের কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ৫ জনই বাংলাদেশি নাগরিক। তবে মঙ্গলবার দিবাগত রাতের সেই ভয়াবহ ঘটনা থেকে প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন তিন বাংলাদেশি।

সেই রাতের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে গাজীপুরের বাসিন্দা আশরাফুল বলেন, ‘আগুন লাগার পর নিচে নামতে পারছিলাম না। কোনোভাবে ধোঁয়ার মধ্যে দিয়ে ওই তলার সবাই ছাদে উঠি। আমরা ২০-২৫ জন ছিলাম। সবাই পানির ট্যাঙ্কের কাছে চলে যাই। বুঝতে পারছিলাম না, কোন দিক থেকে আগুন আসতে পারে। তবে আমরা ঠিক করেছিলাম, আগুনের শিখা দেখতে পেলেই ট্যাঙ্কের পানি নিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করব।’

জানা গেছে, গত শনিবার থেকে ওই ভবনের চতুর্থ তলার হোটেলে ছিলেন আশরাফুল। ব্যবসায়িক কাজে তিনি কলকাতায় গিয়েছিলেন।

একই হোটেলে উঠেছিলেন ঢাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ নাজমুল সরকারও। তিনি বলেন, একপর্যায়ে তার মনে হয়েছিল তিনি আর বাচবেন না। চারপাশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যাওয়ায় শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল এবং অক্সিজেনের অভাব অনুভব করছিলেন।

নাজমুল বলেন, ‘হোটেলের কর্মচারীরা বারবার বলছিলেন, উপরে উঠুন। কিন্তু উপরে ওঠার রাস্তা এতটাই সরু যে একজন করে উঠতে পারেন। লোহার সিঁড়ি ছিল। কোথা দিয়ে পালাব, সেটাই বুঝতে পারছিলাম না। নিচে নামার কোনো পরিস্থিতি ছিল না। পুরোটা ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছিল। এক হাত দূরেও কিছু দেখতে পাচ্ছিলাম না। গেট খোলার সঙ্গে সঙ্গে ধোঁয়া ভেতরে ঢুকে পড়ে। চারপাশ অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল। মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে কোনোভাবে উপরে উঠে যাই।’

জানা গেছে, হৃদ্‌রোগের চিকিৎসার জন্য তিনি কলকাতায় গিয়েছিলেন।

পরিবারের সদস্য ও সন্তানকে নিয়ে ওই ভবনের নিচতলার আরেকটি হোটেলে উঠেছিলেন কাউসার হোসেন নামের আরেক বাংলাদেশি। কাউসার জানান, প্রথমে তারা আগুন লাগার বিষয়টি বুঝতেই পারেননি। ঘুমের মধ্যে হোটেলকর্মীরা দরজায় ধাক্কা দিয়ে তাদের জাগিয়ে তোলেন। এরপর তারা দ্রুত হোটেল থেকে বের হয়ে আসেন। তবে বাইরে বের হওয়ার পর মনে পড়ে, ঘরের ভেতর তাদের পাসপোর্ট রয়ে গেছে। পরে পাসপোর্ট আনতে আবার হোটেলের ভেতরে ঢুকেছিলেন তিনি।

কলকাতার ওই হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজন বাংলাদেশির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশন জানিয়েছে, নিহত ৫ বাংলাদেশির মধ্যে চারজন কুষ্টিয়া ও একজন ঢাকার অধিবাসী। তাঁরা হলেন কুষ্টিয়ার দেবাশিস দত্ত, আফসানা শিম্মিন, শর্ণশিষ দত্ত, মো. আকরাম আলী এবং ঢাকার সাভারের আহমেদ বাবু।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ